জাপানমুখী কর্মী প্রেরণে নীতিগত বৈঠক অনুষ্ঠিত

ঢাকা, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:
বাংলাদেশ থেকে জাপানে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ জোরদার করার লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া। উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক এমপি, পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এই সভাটি আগের দিন, ২১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় আয়োজন করা হয়। সেই বৈঠকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষত জাপানে জনশক্তি প্রেরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের প্রেক্ষিতেই এদিনের সভায় বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়।

সভায় জানানো হয়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মোট ২০টি কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জনগণের সমর্থনে এগুলো এখন জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। এসব কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত কর্মপন্থা নির্ধারণে আলোচনা হয়।

বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে জাপানের শ্রমবাজারে ভবিষ্যৎ চাহিদা। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ কর্মীর প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে যুবশ্রেণির মধ্যে জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৩ লাখ অতিরিক্ত যুব শ্রমশক্তি রয়েছে, যাদের দক্ষ করে বিদেশে প্রেরণ করা গেলে তা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জাপানমুখী জনশক্তি উন্নয়ন পরিকল্পনা

বিষয়বর্তমান অবস্থাপরিকল্পনা
অতিরিক্ত যুব শ্রমশক্তিপ্রায় ২৩ লাখদক্ষতায় রূপান্তর
জাপানের চাহিদা (২০৪০)১.১ কোটিবিভিন্ন ট্রেডে কর্মসংস্থান
প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)৩৩টিবাড়িয়ে ৫৩টি
বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রপ্রায় ২০০টিসমন্বিত অংশগ্রহণ
ভাষা শিক্ষাসীমিত শিক্ষকশিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি

সভায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মূলত অদক্ষ শ্রমিক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে জাপানের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ এবং জাপানি ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে পূর্বে ৩৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (টিটিসি) প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ৫৩টিতে উন্নীত করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় ২০০টি বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং জনশক্তি রপ্তানিকারক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে জাপানি ভাষা শিক্ষকের ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে এবং দুই কার্যদিবস পর অগ্রগতি পর্যালোচনায় আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন—প্রশিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সঙ্গে শিগগিরই একটি মতবিনিময় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি সুসংহত সুপারিশমালা প্রণয়ন করে তা সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে।

সভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান, যাতে বাংলাদেশ দ্রুত জাপানের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারে।