সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জানাজাস্থলে নেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে জাতির পতাকায় মোড়ানো বিশেষ ফ্রিজার ভ্যানে করে মরদেহ সেখানে আনা হয়। এসময় পুরো এলাকা জুড়ে শোকের আবহ নেমে আসে, সমবেত জনতার স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে স্থানটি। দেশের নানা প্রান্ত থেকে জড়ো হওয়া মানুষ প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে অপেক্ষা করছিলেন দীর্ঘ সময় ধরে।
জানাজা পরিচালনা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ইমামতি করবেন বলে জানানো হয়েছে। আয়োজনের দায়িত্বে থাকা নেতারা জানান, যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করে জানাজা সম্পন্ন করা হবে।
এর আগে দুপুর ২টা ৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানাজাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে সমবেত হন। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটেই খালেদা জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছায়, যেখানে দুপুর থেকে হাজার হাজার মানুষ অবস্থান করে প্রিয় নেত্রীকে বিদায় জানাতে।
রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী মরদেহ বহন, জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের আবেগভরা স্লোগান– “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, তুমি আমাদের হৃদয়ে”– বারবার ধ্বনিত হচ্ছে। উপস্থিত জনতা জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ও ত্যাগ জাতির স্মৃতিতে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
ঘটনাপ্রবাহ (সময়ক্রমে সংক্ষিপ্ত বিবরণ)
| সময় ও তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫০ এএম | মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মরদেহ পৌঁছায় |
| ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:০৫ পিএম | জানাজাস্থলে পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস |
| ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:২৫ পিএম | জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে মরদেহ নেওয়া হয় |
| কিছুক্ষণ পর | বায়তুল মোকাররমের খতিবের ইমামতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা |
| জানাজা শেষে | বনানীতে জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন |
দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়, তিনবারের প্রধানমন্ত্রীত্ব, দুর্দিনে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম—সবকিছু মিলিয়ে খালেদা জিয়ার বিদায় দেশের জন্য এক গভীর শূন্যতার মুহূর্ত। মানিক মিয়ার জনসমুদ্র যেন প্রতিফলন রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পতনের। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের ঢল নামলেও, সবার চোখে বিষাদ আর নীরব বেদনা স্পষ্ট।
এই বিদায় শুধু একজন নেত্রীর নয়; এ বিদায় এক যুগের রাজনীতির, এক ইতিহাসের।
