জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হারুন-অর-রশীদ ও মো. মশিউর রহমানকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রমে তাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ মঙ্গলবার এই আদেশ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের পক্ষে সংস্থার উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন আবেদন করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়, “দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করতে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান চলমান থাকায় অভিযোগের সঙ্গে জড়িতরা দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে পারে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। এজন্য তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রদান একান্ত প্রয়োজন।”
সাবেক উপাচার্যদের দায়িত্বকাল সংক্ষেপে
| নাম | দায়িত্বকাল | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|---|
| হারুন-অর-রশীদ | ৬ মার্চ ২০১৩ – ৫ মার্চ ২০২১ | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক; প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য দায়িত্বে ছিলেন। |
| মো. মশিউর রহমান | মে ২০২১ – ১১ আগস্ট ২০২৪ | উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে পরবর্তীতে উপাচার্য হন; পদত্যাগ করেন ২০২৪ সালে। |
হারুন-অর-রশীদ প্রথমবার ২০১৩ সালের ৬ মার্চ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চার বছর পর ২০১৭ সালে তাকে পুনরায় দায়িত্বে পুনর্নিযুক্ত করা হয়। তার দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২১ সালের ৫ মার্চ শেষ হয়।
মশিউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২১ সালের মে মাসে তিনি উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি পদত্যাগ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুদকের অনুসন্ধান টিম ইতোমধ্যেই প্রাথমিক তথ্য ও নথি যাচাই শুরু করেছে। তাদের তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয়ভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ, নথিপত্র সংগ্রহ ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে এবং তা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন জানিয়েছে, সাবেক উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রশাসন সহযোগিতা করছে। এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষাঙ্গনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি শিক্ষা খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
