জাতীয় নারী ফুটবল দল ও বাটলারের গোলকধাঁধা

জাতীয় নারী ফুটবল দলের হেড কোচ পিটার বাটলারের কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশের ফুটবল অঙ্গনে পুনরায় সমালোচনার ঝড় বইছে। বিতর্ক, স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ নতুন নয়; টানা দ্বিতীয়বার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পরও ১৮ জন ফুটবলার বাটলারের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। যদিও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর হস্তক্ষেপে কিছুটা দূরত্ব মিটেছে, তবুও পাঁচজন জয়ের নায়ক নারী ফুটবলারের জাতীয় দলে ডাক পড়েনি।

সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভীন, মাতসুশিমা সুমাইয়া, কৃষ্ণা রানী এবং সানজিদা আক্তার—যারা দেশের জন্য প্রথমবার ফুটসাল শিরোপা জয় করেছিলেন—তাদের ডাক নাও পাওয়া বিষয়টি ফুটবল অঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচিত। মনে করা হচ্ছে, বাটলারের ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এসময় বাটলার অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ দলের দায়িত্বও গ্রহণ করেন। কিন্তু ফাইনালে বাংলাদেশের হারের পর—৪-০ গোলে নেপালকে—তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে হারের ব্যাখ্যা দেননি। পরে রাতে সংবাদমাধ্যমকে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে দায় ‘খেলোয়াড়দের ক্লান্তি’ হিসেবে আঙুলে চেপে দেন। বাটলারের বার্তায় বলা হয়েছে,

“মেয়েরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত ছিল। আমার কাছে তারা সঠিক অবস্থায় ছিল না। যদিও আমি ম্যাচের আগে তাদের সতেজ রাখার চেষ্টা করেছি।”

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, বাটলারের এমন আচরণ নতুন নয়। জয়লাভ করলে কৃতিত্ব নেওয়া, হার হলে সব দায় খেলোয়াড়দের ওপর চাপিয়ে নেওয়া তার পরিচিত স্বভাব। বিশেষত লীগ পর্বে সহজে জয় পাওয়া দলকে ফাইনালে চার গোল হজম করতে দেখা গেলে ‘ক্লান্তি’ যুক্তি যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।

এদিকে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল মূল এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ার শীর্ষ টুর্নামেন্টে নাম লিখিয়েছেন মেয়েরা। গ্রুপ পর্বে তারা খেলবে:

গ্রুপ প্রতিদ্বন্দ্বীচ্যাম্পিয়ন সংখ্যাগুরুত্বপূর্ণ নোট
চীন৯ বারসবসময় শীর্ষ র‌্যাঙ্কের দল
উত্তর কোরিয়া৩ বারগত তিনটি আসরে শক্তিশালী
উজবেকিস্তান০ বারনতুন উদীয়মান দল

তবে জাতীয় দলের প্রস্তুতির সময় বাটলার বয়সভিত্তিক দলে মনোনিবেশ করেছেন। প্রাথমিক স্কোয়াডে সাবিনা খাতুন ও মাসুরা পারভীন থাকলেও ফর্ম থাকা সত্ত্বেও তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। স্বল্প সময়ের ট্রায়ালের ভিত্তিতে সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকায় ফেরার পর বাটলার মূল দলে মনোনিবেশ করবেন আফঈদা, মারিয়া ও তহুরাদের প্রস্তুতির ওপর। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, এমন ছকহীন এবং দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকলে এশিয়ান কাপের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের জন্য কতটা ক্ষতি হবে।

বাংলাদেশের নারী ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে থাকা হেড কোচের মন-মর্জি ও দৃষ্টিভঙ্গি এখন দেশজুড়ে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।