ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা নেইমারের জন্য সান্তোসে প্রতিটি ম্যাচ এখন যেন নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার মঞ্চ। দীর্ঘ সময় চোটে ভোগার পর ক্লাব ও জাতীয় দলে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল দলে জায়গা পেতে হলে শুধু ফিটনেস ফিরে পাওয়াই নয়, মাঠে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও দেখাতে হবে এই তারকাকে। সেই লক্ষ্যেই ব্রাজিলিয়ান লিগে কোরিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সান্তোসের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার।
ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে সান্তোস ১–১ গোলে ড্র করে। দলের একমাত্র গোলটি আসে নেইমারের তৈরি করা সুযোগ থেকেই। তিনি একটি নিখুঁত পাস দিয়ে সতীর্থকে গোলের সুযোগ করে দেন, যা শেষ পর্যন্ত সান্তোসকে সমতায় ফিরিয়ে আনে। তবে ব্যক্তিগতভাবে খুব উজ্জ্বল দিন কাটেনি এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের। আক্রমণে কয়েকবার চেষ্টা করলেও তাঁর নেওয়া শটগুলো গোলের দেখা পায়নি।
ম্যাচে নেইমার মোট তিনটি শট নেন, যার মধ্যে দুটি ছিল ফ্রি–কিক থেকে। কিন্তু প্রতিপক্ষের শক্ত রক্ষণভাগের কারণে সেগুলো সফল হয়নি। পাসিংয়েও তিনি খুব বেশি কার্যকর ছিলেন না। পুরো ম্যাচে তিনি ২৯টি পাস দেন, যার মধ্যে ৯টি ঠিক ঠিকানায় পৌঁছায়নি। কয়েকবার অতিরিক্ত ড্রিবল করার চেষ্টা করতে গিয়ে সম্ভাবনাময় আক্রমণও নষ্ট হয়ে যায়।
কোরিন্থিয়ান্সের ডিফেন্ডারদের কড়া নজরদারির কারণে নেইমারকে বেশ চাপে থাকতে হয়েছে। ম্যাচ চলাকালে তাঁকে তিনবার ফাউল করা হয়, অন্যদিকে তিনি নিজেও দুটি ফাউল করেন। সব মিলিয়ে ম্যাচটি তাঁর জন্য মাঝারি মানের পারফরম্যান্স হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যাচের ফলাফলেও খুব বেশি সন্তুষ্ট হতে পারেনি সান্তোস। চলতি লিগে ছয়টি ম্যাচ খেলে মাত্র একটি জয় পেয়েছে দলটি। ফলে পয়েন্ট টেবিলের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে তারা।
নিচে সান্তোসের চলতি লিগের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| সূচক | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট ম্যাচ | ৬ |
| জয় | ১ |
| ড্র | ৩ |
| হার | ২ |
| পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান | ১৩ |
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নেইমার তাঁর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন। তিনি জানান, জাতীয় দলে ফেরার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোচিং স্টাফের ওপর নির্ভর করছে।
নেইমার বলেন, “জাতীয় দলে ফিরে আবার বিশ্বকাপে খেলতে পারাটা আমার জন্য বড় স্বপ্ন। আমি সেই লক্ষ্যেই কঠোর পরিশ্রম করছি। তবে শেষ সিদ্ধান্তটা কোচিং স্টাফ নেবে। আমি দলে থাকি বা না থাকি, ব্রাজিল জাতীয় দলকে সব সময় সমর্থন করব।”
ব্রাজিল দলের আসন্ন দুটি প্রীতি ম্যাচকে ঘিরে ফুটবল মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২৬ মার্চ রাতে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এরপর ১ এপ্রিল ভোরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এই দুটি ম্যাচই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যদিও ম্যাচটি দেখতে ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি মাঠে উপস্থিত ছিলেন না, তবে তাঁর সহকারী মিনো ফুলকো এবং ফ্রান্সেসকো মাউরি স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের মূল্যায়নের ওপরই অনেকটাই নির্ভর করবে নেইমারের জাতীয় দলে ফেরার ভবিষ্যৎ।
উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুন শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ, যা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। তার আগে মে মাসে ব্রাজিল দলের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে। ফলে সামনের কয়েকটি ম্যাচই নেইমারের জন্য নিজের সামর্থ্য প্রমাণের শেষ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
