জর্ডান নদী থেকে সমুদ্র, ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ অটুট

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, গাজার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইসরাইল “যা কিছু প্রয়োজন, সবই করবে” এবং ইসরাইলের ভূখণ্ড জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত—এই পুরো এলাকায় শাসন ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাদের হাতেই। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন, যা দেশটির টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হবে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার ভাষায়, “এটা কখনো ঘটেনি, ভবিষ্যতেও ঘটবে না।” আন্তর্জাতিক মহলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও দুই রাষ্ট্র সমাধানের আলোচনা চললেও ইসরাইলের বর্তমান নেতৃত্ব এই প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে—এ কথাও তিনি স্পষ্ট করে দেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দাবি, “জর্ডান নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত” পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এই নীতি গাজা উপত্যকার ক্ষেত্রেও অপরিবর্তিত থাকবে। তার মতে, কোনো বিকল্প শাসনব্যবস্থা বা নিরাপত্তা কাঠামো ইসরাইলের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম নয়।

গাজা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু হামাসকে কেন্দ্র করে কড়া অবস্থান নেন। তিনি বলেন, গাজায় অবস্থানরত হামাস যোদ্ধাদের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং সংগঠনটিকে সামরিকভাবে অকার্যকর করা ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য। প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। হামাসের অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস, সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া গাজার পুনর্গঠন প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু কঠোর শর্ত আরোপ করেন। তার মতে, নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর না করে কোনো পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হতে পারে না। তিনি বলেন, “সামরিকমুক্তকরণের আগেই গাজার পুনর্গঠনের অনুমতি দেওয়া হবে—এমন কথা শোনা যাচ্ছে। এটা হবে না। নিরাপত্তাই সবার আগে।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, মানবিক ও অবকাঠামোগত পুনর্গঠনও ইসরাইলের নিরাপত্তা লক্ষ্য পূরণের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।

বিদেশি বা আন্তর্জাতিক বাহিনী গাজায় মোতায়েনের সম্ভাবনাও সরাসরি নাকচ করে দেন নেতানিয়াহু। তুরস্ক বা কাতারের সেনা পাঠানোর আলোচনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এসব গুজব বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই। কোনো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীও গাজায় মোতায়েন করা হবে না। তার ভাষায়, ইসরাইলই গাজা ও বৃহত্তর অঞ্চলে পূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।

নেতানিয়াহুর এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা, গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ও পুনর্গঠন—সবকিছুই এই ঘোষণার ফলে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

নিচের সারণিতে নেতানিয়াহুর ঘোষিত প্রধান অবস্থানগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলোঃ

বিষয়নেতানিয়াহুর অবস্থান
ভূখণ্ডের দাবিজর্ডান নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত ইসরাইল
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকোনোভাবেই অনুমোদন নয়
গাজার নিরাপত্তাইসরাইলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ
হামাসসম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ও সামরিক ধ্বংস
পুনর্গঠননিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে নয়
বিদেশি সেনাসম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান

এই ঘোষণাগুলো ইসরাইলের বর্তমান সরকারের নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নীতিরই প্রতিফলন, যা আগামী দিনে আঞ্চলিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।