জরুরি চাহিদা পূরণে ডিজেল আমদানির অনুমোদন

দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজারে ডিজেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এই পদক্ষেপ দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়েই নেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনের প্রেক্ষাপট

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সরকারি ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরি, যেখানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে দেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে ডিজেলের ঘাটতি প্রতিরোধ করতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় মন্ত্রী বলেন, “দেশে ডিজেলের অভাব রোধ করতে এবং যাত্রী, শিল্প ও কৃষিখাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

আমদানির পরিকল্পনা

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিজেল আমদানি করা হবে:

  • এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন
  • সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন

এই আমদানি দেশের তেল বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং শিল্প ও ভোক্তা খাতে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

বিষয়বিবরণ
অনুমোদিত ডিজেল৩,০০,০০০ মেট্রিক টন
আমদানি পদ্ধতিআন্তর্জাতিক ক্রয়, সরাসরি
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানএপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড (১ লাখ মেট্রিক টন), সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড (২ লাখ মেট্রিক টন)
অনুমোদন কর্তৃপক্ষঅর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি
অনুমোদনের তারিখ২৬ মার্চ ২০২৬
উদ্দেশ্যদেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও বাজার স্থিতিশীলতা

বিশ্লেষণ

বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য অস্থিতিশীলতা এবং ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত এই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ ডিজেল বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে এবং পরিবহন ও শিল্প খাতের কার্যক্রম কোনো বিঘ্ন ছাড়াই চলতে পারবে।

সরকারের এ উদ্যোগে বাজারে অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি রোধ, সাধারণ ভোক্তাদের ডিজেলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতের উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

সার্বিকভাবে, দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির এই অনুমোদন একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও নিরাপত্তা উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।