দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে পুলিশ বাহিনীতে জরুরি ভিত্তিতে ২,৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এই নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে এবং তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়-এ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী জানান, দেশে এখনো ১০ হাজারের বেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। এসব অস্ত্র অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সেগুলো উদ্ধার করা হবে। প্রয়োজনে এসব অস্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সগুলো পুনরায় যাচাই (ভেরিফিকেশন) করা হবে। বিশেষ করে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া লাইসেন্সগুলো যথাযথ নিয়ম মেনে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। যদি দেখা যায় কোনো লাইসেন্স রাজনৈতিক বা অযৌক্তিক কারণে প্রদান করা হয়েছে, তবে সেগুলো বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করা হবে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, লাইসেন্সধারীরা প্রকৃতপক্ষে অস্ত্র পাওয়ার যোগ্য কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে অস্ত্র ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, নতুন কনস্টেবলরা মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে অপরাধ দমন, টহল জোরদার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে।
নিচে ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| কনস্টেবল নিয়োগ | ২,৭০১ জন |
| নিয়োগের ধরন | জরুরি ভিত্তিতে |
| অবৈধ অস্ত্র | ১০,০০০+ এখনো উদ্ধার হয়নি |
| অস্ত্র লাইসেন্স যাচাই | পূর্ববর্তী সব লাইসেন্স পুনর্মূল্যায়ন |
| বাতিলের শর্ত | রাজনৈতিক বা অযৌক্তিকভাবে দেওয়া লাইসেন্স |
| আইনি ব্যবস্থা | অবৈধ অস্ত্রের ক্ষেত্রে মামলা হতে পারে |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং কার্যকর হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত নিয়োগ, কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।
