জয়ে শুরু হলো শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ অভিযান

শ্রীলঙ্কা শুরু করল তাদের ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান একটি শক্তিশালী জয় দিয়ে। রোববারের ম্যাচে আইরিশদের সঙ্গে লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ে ধীরগতিতে শুরু করলেও শেষ দিকে কামিন্দু মেন্ডিসের ঝড়ো ব্যাটিং দলের জন্য লড়াই করার মতো একটি প্রতিযোগিতামূলক স্কোর গড়ে তোলে। জবাবে, আয়ারল্যান্ড শেষ মুহূর্তের চেষ্টা করলেও শ্রীলঙ্কার বাঁধা ভেঙে জয় থেকে ২০ রান দূরে থেমে যায়।

শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান সংগ্রহ করে। দলের সর্বোচ্চ রান আসে ওপেনার কুশাল মেন্ডিস থেকে, যিনি ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ধীরে ধীরে খেলার শুরুতে শ্রীলঙ্কা ১৩.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮৬ রান তুলেছিল। কিন্তু কামিন্দু মেন্ডিস ব্যাট হাতে ঝড় তোলে; মাত্র ১৯ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া পাথুম নিশাঙ্কার ২৪ রান যোগ করেন।

শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং সারসংক্ষেপ:

ব্যাটসম্যানরানের সংখ্যাবলচারছয়অবস্থা
কুশাল মেন্ডিস564350অপরাজিত
কামিন্দু মেন্ডিস441942আউট
পাথুম নিশাঙ্কার242320আউট

আইরিশ ব্যাটসম্যানরা শুরুতে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও পরবর্তীতে উইকেট হারাতে থাকে। চতুর্থ ওভারে পল স্টার্লিংয়ের আউটের পর রস অ্যাডায়ার ও হ্যারি ট্যাক্টর জুটি গড়ে দলকে কিছুটা সমর্থন দেন। ৫৬ রানে অ্যাডায়ার আউট হলে ট্যাক্টরকে রড টাকার সঙ্গ দান করে। তবে শেষ ৬ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ রানের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয় আয়ারল্যান্ড।

আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং সারসংক্ষেপ:

ব্যাটসম্যানরানের সংখ্যাবলচারছয়অবস্থা
হ্যারি ট্যাক্টর403440আউট
রড টাকার2130আউট
রস অ্যাডায়ার342330আউট

শ্রীলঙ্কার বোলাররা শেষের দিকে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। মাহিশ থিকসানা ৪ ওভারে ৩ উইকেট নেন, মাত্র ২৩ রান খরচ করে। সমান ৩ উইকেট নেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাও, যিনি ২৫ রান দেন। দুই উইকেট পান মাতিশা পাথিরানা।

শ্রীলঙ্কার বোলিং পারফরম্যান্স:

বোলারওভাররানউইকেট
মাহিশ থিকসানা4233
ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা4253
মাতিশা পাথিরানা4282

শ্রীলঙ্কা এই জয় দিয়ে ‘বি’ গ্রুপে তাদের অবস্থান দৃঢ় করে। পরের ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে ওমানের। অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ড তাদের পরবর্তী ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

শ্রীলঙ্কার জন্য এই জয় শুধু আত্মবিশ্বাস বাড়াল না, বরং দলকে এই বিশ্বকাপে প্রতিযোগিতামূলক হওয়ার বার্তা দিল। কামিন্দু মেন্ডিসের ঝড়ো ব্যাটিং এবং থিকসানা ও হাসারাঙ্গার বাঁধভাঙা বোলিং ছিল জয় লাভের মূল চাবিকাঠি।