ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই সংবাদমাধ্যমে অন্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন ডেকলান রাইস ও ক্রিস্থিয়ান মস্কেরা। ম্যাচে বিজয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে দুই তারকার চোট। গ্যাব্রিয়েল, সালিবা আগে থেকেই বাইরে ছিলেন; এখন রাইস-মস্কেরাও যোগ করলেন তালিকায়। ফলে আর্সেনাল যেন মাঠের বাইরের এক ‘স্বাস্থ্য সংকটে’ ডুবে যাচ্ছে।
মধ্যমাঠের প্রাণভোমরা রাইস। রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডার মস্কেরা। এদের দুজনকে হারানো মানে শুধু একজন খেলোয়াড়কে হারানো নয়, দলের রক্ষণ-আক্রমণে সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। ম্যাচ শেষে আর্তেতা বলেন, “যে অবস্থায় আছি, আমাদের মানিয়ে নিতে হবে, কিন্তু এটা সহজ নয়। এক-দুইজন নয়, একাধিক খেলোয়াড় আমাদের বাইরে।”
ফুটবল এখন আগের চেয়ে দ্রুততর, কঠিনতর ও অধিক প্রতিযোগিতাময়। প্রযুক্তি, বিশ্লেষণ, শারীরিক ট্রেনিং—সব মিলিয়ে সামগ্রিক পারফরম্যান্স বাড়ছে, কিন্তু একইসঙ্গে খেলোয়াড়দের শরীরের ওপর চাপ বাড়ছে তিনগুণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ব্যস্ত সূচি নয়, অতিরিক্ত ট্রেইনিং, মানসিক চাপ এবং বিদেশ সফরও চোটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ফুটবলারদের দেহ যন্ত্র নয়, তারা যতটা স্বাভাবিক বিশ্রাম পায়, তা তাদের কর্মব্যস্ততার তুলনায় হাস্যকরভাবে কম।
ইউরোপিয়ান ফুটবলের দলগুলো সপ্তাহে দুই বা তিনটি ম্যাচ খেলে থাকে। লিগ, কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, জাতীয় দল, ভ্রমণ—সব মিলিয়ে ক্লান্তি অবশ্যম্ভাবী। এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হয় বড় দলগুলো। কারণ তারা প্রতিটি টুর্নামেন্টেই খেলতে বাধ্য। আর্সেনাল ঠিক এমন এক সমস্যায় পড়েছে। ভিলার বিপক্ষে ম্যাচের আগে দল নির্বাচনে অস্বস্তি স্পষ্ট। এরপর বেলজিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ।
সূত্র বলছে, রাইসের চোট গুরুতর হলে কয়েক সপ্তাহ বাইরে থাকতে হতে পারে। মস্কেরার ক্ষেত্রেও একই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর্সেনাল এখন শীর্ষে থাকলেও আগামী কয়েক সপ্তাহ তাদের মৌসুমের ভবিষ্যতকে বদলে দিতে পারে। চোটের এ ঝুঁকি যদি থেকেও যায়, তবে শিরোপা লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
এমন অবস্থায় আর্তেতার বক্তব্য অকারণ নয়। শুধু আর্সেনাল নয়, ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুলসহ বেশ কয়েকটি ক্লাব একই সংকটে ভুগছে। তাই ফুটবল কর্তৃপক্ষের প্রতি তার দাবি “একটা অতিরিক্ত বিশ্রামের দিন”—যা হয়তো আগামী মৌসুমে ফুটবলের চেহারা পাল্টে দিতে সক্ষম।
