জয়ের আনন্দ ম্লান করে পাকিস্তানের বিদায়, সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড

পাল্লেকেলের ক্রিকেট ময়দানে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও নাটকীয় লড়াইয়ের সাক্ষী হলো বিশ্ব ক্রিকেট। সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে পাকিস্তান। তবে এই জয় দলটির জন্য বয়ে আনেনি কোনো উৎসবের উপলক্ষ; বরং ম্যাচ শেষে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের চোখেমুখে ছিল বিদায়ের বিষণ্ণতা। সেমিফাইনালের সমীকরণ মেলাতে না পারায় জয় সত্ত্বেও টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে বাবর আজমদের উত্তরসূরিদের। ফলে ইংল্যান্ডের সঙ্গী হিসেবে গ্রুপ-১ থেকে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল নিউজিল্যান্ড।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও সেমিফাইনালের কঠিন সমীকরণ

সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে পাকিস্তানকে কেবল জিতলেই হতো না, মেলাতে হতো নিট রান রেটের এক জটিল অঙ্ক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ২১২ রানের পাহাড়সম পুঁজি দাঁড় করায়। কিউইদের টপকে সেমিফাইনালে যেতে হলে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রান বা তার নিচে আটকে রাখার প্রয়োজন ছিল শাহিন আফ্রিদিদের। কিন্তু লঙ্কান ব্যাটারদের দৃঢ়তায় সেই সমীকরণ ভেস্তে যায়। শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০৭ রান তোলায় পাকিস্তানের সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

ফখর-ফারহান জুটির বিশ্ব রেকর্ড

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান বিধ্বংসী শুরু করেন। উদ্বোধনী জুটিতে তারা মাত্র ৯৫ বলে ১৭৬ রান যোগ করেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের নতুন বিশ্ব রেকর্ড। ফখর জামান ৪২ বলে ৮৪ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে আউট হলেও সাহিবজাদা ফারহান তুলে নেন অনবদ্য এক সেঞ্চুরি। ৬০ বলে ১০০ রানের এই ইনিংসে তিনি ৯টি চার ও ৫টি ছক্কা হাঁকান। এই ইনিংসের পথেই তিনি এক বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির করা সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের রেকর্ড ভেঙে ৩৮৩ রানে পৌঁছান।

নিচে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড দেওয়া হলো:

বিষয়পাকিস্তান (PAK)শ্রীলঙ্কা (SL)
মোট রান২১২/৮ (২০ ওভার)২০৭/৬ (২০ ওভার)
সেরা ব্যাটারফারহান (১০০), ফখর (৮৪)শানাকা (৭৬*), রত্নায়েকে (৫৮)
সেরা বোলারআবরার আহমেদ (৩/২৩)দিলশান মাদুশঙ্কা (৩/৩৩)
ম্যাচের ফলাফলপাকিস্তান ৫ রানে জয়ীবিদায় নিশ্চিত (সুপার এইট)
টুর্নামেন্ট ভাগ্যরান রেটে পিছিয়ে বিদায়সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড

লঙ্কানদের প্রতিরোধ ও নাটকীয় সমাপ্তি

পাকিস্তানের দেওয়া ২১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা একপর্যায়ে ১০০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে। ঠিক তখনই দলের হাল ধরেন প্রবান রত্নায়েকে ও অধিনায়ক দাসুন শানাকা। রত্নায়েকে মাত্র ৩৭ বলে ৫৮ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে পাকিস্তানের সেমিফাইনালের পথ বন্ধ করে দেন। রত্নায়েকে বিদায় নিলেও শানাকা ম্যাচ জেতানোর লড়াই চালিয়ে যান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য লঙ্কানদের প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। শাহিন আফ্রিদির প্রথম বলে চার মারার পর টানা তিনটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণ ২ বলে ৬ রানে নামিয়ে আনেন শানাকা। তবে শেষ দুই বল ডট দেওয়ায় শ্রীলঙ্কা ৫ রানে পরাজিত হয়।

পাকিস্তানি মিডল অর্ডারের ধস

ওপেনিংয়ে রেকর্ড গড়ার পরও পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ছিল চরম হতাশাজনক। শেষ ৪ ওভারে মাত্র ৩৪ রান তুলতে গিয়ে তারা ৭টি উইকেট হারায়। দুই ওপেনার ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। মূলত এই ব্যাটিং ধস এবং শ্রীলঙ্কাকে অল্প রানে আটকে রাখতে না পারার কারণেই পাকিস্তানকে আজ অশ্রুসিক্ত নয়নে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। ৫ রানের জয়টি কেবল সান্ত্বনা হয়েই থাকল তাদের ড্রেসিংরুমে।