জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় সম্প্রতি বক্তব্য দেওয়া নারীর পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় স্পষ্টতা এনেছেন দলের ডেপুটি চিফ অরগানাইজার ডা. মাহমুদা মিতু। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন, ওই নারী আসলে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির “বোন” নয়, বরং তার ফুফাতো বোন শবনম খাদিজা।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেছেন, “আজকের জনসভায় নাহিদ ইসলামের পাশে বক্তব্য দেওয়া শবনম খাদিজা শহীদ হাদির ফুফাতো বোন। মিডিয়ায় যে সংবাদটি ‘ওসমান হাদির বোন’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, শবনম খাদিজার পিতা মাওলানা আব্দুর রশিদ এবং মা জনাবা হাসিনা বেগম। তার নানা হলেন শফিজ উদ্দিন মুন্সী। শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বাবা মরহুম জনাব শরিফ আব্দুল হাদি শবনমের মামা। শবনম খাদিজার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মধ্য কামবেতপুরে।
ডা. মিতু উল্লেখ করেছেন, “জনসভাস্থলের কাছেই তার বাড়ি থাকায়, তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে কিছু বক্তব্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে সংক্ষিপ্তভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।”
সরাসরি জনসভা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শবনম খাদিজা মূলত স্থানীয় সমাজ ও সমিতির কার্যক্রমে সক্রিয়। তার বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের ফল নয়, এটি শুধুমাত্র স্থানীয় উদ্যোগের অংশ।
নিচের টেবিলে শবনম খাদিজা ও তার পরিবারের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো:
| নাম | সম্পর্ক | অন্যান্য তথ্য |
|---|---|---|
| শবনম খাদিজা | ফুফাতো বোন (শহীদ শরিফ ওসমান) | ঝালকাঠি, নলছিটি উপজেলার মধ্য কামবেতপুর বাসিন্দা |
| মাওলানা আব্দুর রশিদ | পিতা | স্থানীয় ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক কাজে সক্রিয় |
| হাসিনা বেগম | মা | শহীদ ওসমান হাদির বাবার আপন ছোট বোন |
| শফিজ উদ্দিন মুন্সী | নানা | স্থানীয় সমাজকর্মে পরিচিত |
| মরহুম শরিফ আব্দুল হাদি | মামা (শহীদ ওসমান হাদির বাবা) | পূর্বে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় |
ডা. মিতু ফেসবুক পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনী সময়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রায়ই ছড়িয়ে পড়ে। তাই জনসাধারণকে যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো তথ্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, স্থানীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের পরিচয় ভুলভাবে প্রচার করলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। এনসিপি আশা করছে, সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ তথ্য যাচাইয়ের পরেই গ্রহণ করবেন, যাতে সত্যের সঙ্গে বিভ্রান্তি না ঘটে।
