ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী ফুলতলী ডিগবাজি মাঠে বৃহৎ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান সরাসরি বক্তব্য রাখেন এই সমাবেশে।
জনসভা উপলক্ষে কুমিল্লা জেলা ও মহানগর বিএনপি মাঠটি সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে সাজিয়েছে। সন্ধ্যার আগেই সমাবেশের মাঠ জনসমাগমে পূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানকে একনজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, “আমি বিকেল ৪টার দিকে সমাবেশে যোগ দিয়েছি। ২০০৫ সালে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে ইউনিয়ন নেতাদের তৃণমূল সম্মেলনে তারেক রহমানকে দেখেছিলাম। ২১ বছর পর আবারও তাকে কুমিল্লায় সরাসরি দেখার সুযোগ পেলাম। এই অভিজ্ঞতা আমার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”
মহিলা দলের নেত্রী রায়হান রহমান হেলেন বলেন, “আমি শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছি। আজ আমাদের নেতা তারেক রহমানকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। প্রয়োজনে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করব।”
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম জানান, তারেক রহমান প্রথমে দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী হয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে একটি জনসভায় বক্তব্য দেন। এরপর তিনি কুমিল্লার সবচেয়ে বড় জনসভা হিসেবে পরিচিত সুয়াগাজীর ডিগবাজি মাঠে বক্তৃতা দেন। তার জনসভা শেষে দাউদকান্দিতে আরও একটি সমাবেশ শেষে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় পৌঁছান।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা নেতৃবৃন্দ, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
| নাম | এলাকা / পদ |
|---|---|
| মনিরুল হক চৌধুরী | কুমিল্লা-৬ সদর |
| রেদোয়ান আহমেদ | কুমিল্লা-৭ চান্দিনা |
| হাজি জসিম উদ্দিন | কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) |
| আ ন ম এহসানুল হক মিলন | সাবেক শিক্ষামন্ত্রী |
| জাকারিয়া তাহের সুমন | কুমিল্লা-৮ বরুড়া ও জেলা সভাপতি |
এছাড়া, সমাবেশে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা, যুব, মহিলা ও ছাত্র নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। ওয়াসিম জানান, “বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা এখানে উপস্থিত হয়েছেন। জনস্রোত এতটাই ব্যাপক যে পুরো মাঠ যেন মানুষের সমুদ্র হয়ে উঠেছে। তারেক রহমানের আগমন এবং বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সমাবেশটি একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
সমাবেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন মাঠে বসে জনসমাবেশ পর্যবেক্ষণ করেছেন। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য ফার্স্ট এইড টিমও প্রস্তুত ছিল।
কুমিল্লার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের ব্যাপক জনসমাবেশে উপস্থিতি তারেক রহমানের প্রভাব ও স্থানীয় সমর্থনের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। সমাবেশ শেষে উপস্থিত জনতা উত্তেজনায় হাততালি ও স্লোগান দিয়ে সমাবেশ শেষ করে।
