চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গলায় ছুরিকাঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আট বছরের একটি ছাত্রী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।
ছাত্রীর চাচা মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলোকে জানান, ভাতিজিকে বাঁচানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অজ্ঞাতপরিচয়ের এক দুর্বৃত্ত শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। আহত অবস্থায় মেয়েটি পাহাড়ি এলাকা থেকে হেঁটে হেঁটে সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত এক্সকাভেটরের চালকের কাছে পৌঁছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল।
ছাত্রীর চাচা আরও জানান, মৃত্যুর সংবাদে বাবা-মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বর্তমানে লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা আছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের পর তাকে বাড়িতে এনে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত রোববার সকালে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে থাকা সহস্রধারা ঝরনার প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে শিশুটিকে পাহাড়ি পথ থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারীরা মূলত সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ছিলেন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
চিকিৎসা চলাকালীন একই রাতে শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়। সোমবার তাকে ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) স্থানান্তরিত করা হয়।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে রোববার রাতে অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামির বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। প্রাথমিকভাবে মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।
আহত শিশুর চিকিৎসা ও উদ্ধার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| তারিখ | ঘটনা | স্থান/প্রক্রিয়া |
|---|---|---|
| ০১ মার্চ ২০২৬ | শিশু পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার | সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়ি পথ |
| ০১ মার্চ ২০২৬ | প্রাথমিক চিকিৎসা | সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
| ০১ মার্চ ২০২৬ | হাসপাতালে ভর্তি ও গলায় অস্ত্রোপচার | চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| ০২ মার্চ ২০২৬ | ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেলে স্থানান্তর | চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| ০২ মার্চ ২০২৬ | মৃত্যুর ঘটনা | চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
স্থানীয় পুলিশ ও চিকিৎসকরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এখন প্রাথমিক কর্তব্য। পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিবারের পাশে রয়েছে।
ছাত্রীর মৃত্যু কেবল স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্যই নয়, বরং সারাদেশে শিশু সুরক্ষা ও অপরাধ দমন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় সারা দেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
