জগন্নাথে ছাদ ধসে আহত দুই শিক্ষার্থী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আজ বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের একটি সেমিনার কক্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ক্লাস চলাকালীন আকস্মিকভাবে ছাদের একটি অংশের পলেস্তারা নিচে পড়ে গেলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী হলেন গণিত বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুর রহমান এবং তানভীর নিয়াজ ফাহিম। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের একটি অংশ ভেঙে তাদের ওপর পড়ে, এতে তারা মাথা ও কাঁধে আঘাত পান। তাৎক্ষণিকভাবে সহপাঠীরা তাদের উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থা গুরুতর না হওয়ায় বাসায় পাঠানো হয়।

আহতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য

নামবিভাগশিক্ষাবর্ষআহত হওয়ার ধরনপ্রাথমিক চিকিৎসা
মাহফুজুর রহমানগণিত বিভাগ২০২৪–২৫মাথা ও শরীরে আঘাতবিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা
তানভীর নিয়াজ ফাহিমগণিত বিভাগ২০২৪–২৫কাঁধে আঘাতবিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা

ঘটনার পরপরই গণিত বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিল আল সিয়াম জানান, সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলার সময় হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হন এবং ক্লাসে উপস্থিত অন্যরা দ্রুত তাদের সহায়তা করেন। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের একাধিক পুরোনো ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ভবনের সংস্কারের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও কার্যকর ও মানসম্মত সংস্কার কাজ হয়নি বলে তারা দাবি করেন। অনেক শিক্ষার্থী বলছেন, নিয়মিত ক্লাস চলাকালীন এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উপাচার্য রইস উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা দ্রুত ও স্থায়ী সংস্কারের দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পুরোনো ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরোনো ভবনগুলো নিয়মিত পরিদর্শন ও সংস্কার না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ক্লাস চলাকালীন ছাদের অংশ খসে পড়া অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা সংকেত, যা অবিলম্বে সমাধান করা প্রয়োজন।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।