রাজধানীর তিতুমীর কলেজে বুধবার বিকেলে ছাত্রদলের দুই ভিন্ন গ্রুপের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে কমপক্ষে আটজন ছাত্র আহত হয়েছেন। সংঘর্ষটি কলেজের শহীদ মামুন হলে সংঘটিত হয়, যেখানে জানালা, দরজা ও বিভিন্ন আসবাবপত্রসহ হলের স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পর কলেজ প্রশাসন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আল আমিন হোসেন বলেন, “শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি। ভবিষ্যতে এমন সংঘর্ষ প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।”
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার এবং গ্রুপের সীমানা নিয়ে বিরোধে ‘মোল্লা’ ও ‘জলতরঙ্গ’ নামে পরিচিত দুটি ছাত্রদল গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন শহীদ মামুন হলে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং ছাত্ররা আহত হন। আহতদের মধ্যে কেউ গুরুতর আহত হলেও, কেউ আংশিকভাবে আহত হয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সংঘর্ষের স্থান | শহীদ মামুন হল, তিতুমীর কলেজ |
| সংঘর্ষের সময় | বুধবার বিকেল |
| আহত ছাত্র সংখ্যা | ৮ জন |
| জড়িত গ্রুপ | মোল্লা গ্রুপ, জলতরঙ্গ গ্রুপ |
| ভাঙচুরের ধরণ | জানালা, দরজা, আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত |
| প্রশাসনের পদক্ষেপ | অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন |
| ছাত্রদলের পদক্ষেপ | যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম নাহিদ ও জলিল আদিক বহিষ্কার; আরিফ মোল্লা, শিহাব উদ্দিন সিয়াম ও জিহাদ হাওলাদারের সাংগঠনিক পদ স্থগিত |
| তদন্ত কমিটি | গঠন করা হয়েছে |
কলেজ ইউনিট ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন জানিয়েছেন, “কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষের বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। ঘটনার পর আমরা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সংঘর্ষের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ইতিমধ্যেই সংঘর্ষে জড়িত দুই যুগ্ম আহ্বায়ককে বহিষ্কার করেছে এবং তিনজনের সাংগঠনিক পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। কলেজ প্রশাসন ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হলেও, এ ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার পরিবেশকে প্রভাবিত করে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সক্রিয় হবার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কলেজ প্রশাসন নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
