খুলনার কয়রা উপজেলার হড্ডা ডিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল প্রায় ছয় বছর আগে। নির্ধারিত সময় ছিল মাত্র দেড় বছর। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের এক পাশে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে পাঠদান। মাত্র চারটি ছোট কক্ষে ২৮৯ জন শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। প্রতিটি কক্ষের আয়তন প্রায় ১০ ফুট বাই ৮ ফুট, যা এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য একেবারেই অপ্রতুল। গরমের দিনে টিনের ছাদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি কক্ষগুলোর শব্দ একে অপরের মধ্যে প্রবেশ করায় পাঠে মনোযোগ দেওয়া আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্যালয়ের পেছনের দিকে নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের কাজ এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ বাকি। যদিও মোট কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, তবে দীর্ঘদিন ধরে কাজের ধীরগতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। জানা গেছে, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের চেষ্টা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানালেও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
নির্মাণকাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্প শুরু | ১৯ মার্চ ২০২০ |
| নির্ধারিত সমাপ্তি | ৩০ জুন ২০২১ |
| প্রকল্প ব্যয় | প্রায় ৪.২৫ কোটি টাকা |
| মোট অগ্রগতি | প্রায় ৭০% |
| অবশিষ্ট কাজ | প্রায় ৩০% |
| সময় বিলম্ব | প্রায় ৫ বছর |
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছে, শ্রেণিকক্ষে বসার জায়গার অভাবে অনেক সময় ক্লাসেই অংশ নিতে পারে না তারা। চারজনের বেঞ্চে পাঁচ-ছয়জন বসতে বাধ্য হয়। অনেক ক্ষেত্রে জায়গা না পেয়ে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরে যেতে হয়। নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, ছোটবেলা থেকে নতুন ভবনের কাজ দেখে আসছে, কিন্তু এখনো সেটি সম্পূর্ণ হয়নি—যা তাদের জন্য হতাশাজনক।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র হালদার জানান, কক্ষসংকটের কারণে গত ছয় বছর ধরে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান সম্ভব হয়নি। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের বারবার অনুরোধ জানানো হলেও তাতে তেমন কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারাও মনে করছেন, তদারকির অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদাসীনতার কারণেই প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। তাদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে এত দীর্ঘ বিলম্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মুত্তাকিন জানান, ঠিকাদারকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে কাজ বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। তবে ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে একাধিকবার সময় বাড়ানো হয়েছিল। এখন দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
