চোটের সময় এই মুহূর্তে কেউ নেই পাশে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক: আধুনিক ফুটবলে একজন ফিজিও ছাড়াই কোনো দলের কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব। চোটগ্রস্ত খেলোয়াড়কে পুনর্বাসন, ধাপে ধাপে অনুশীলন শুরু করা, দৌড়ানো বা বলের সঙ্গে কাজ শুরু করার সময় নির্ধারণ—এই সব দায়িত্ব ফিজিওর। এছাড়া ম্যাচে ফেরার ছাড়পত্রও তিনি দেন।

তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়া যাওয়া বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সঙ্গে নেই কোনো ফিজিও। সিডনিতে দুই দিন ধরে অনুশীলন হয়েছে ফিজিও ছাড়াই। অনুশীলনের সময় কেউ চোটে পড়লে আপাতত দলের সঙ্গে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার কেউ নেই।

বাফুফের দেওয়া তালিকায় ফিজিও হিসেবে নাম ছিল জাকিয়া রহমানের। কিন্তু স্বাস্থ্যজনিত কারণে তিনি দলের সঙ্গে যেতে পারেননি। সম্প্রতি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করাতে হয়েছে তাঁর। এছাড়া তার বদলি হিসেবে কাউকেই অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়নি। সূত্রের খবর, বাফুফে এখন তড়িঘড়ি করে অস্ট্রেলিয়ায় একজন ফিজিও খুঁজছে।

ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলের সঙ্গে একটি ফিজিও থাকা বাধ্যতামূলক। ঢাকা ও চট্টগ্রামে হওয়া ক্যাম্পগুলোতে সার্বক্ষণিক ফিজিও থাকলেও, ইতিহাস রচনার আসরে ফিজিও নিশ্চিত না করেই দল পাঠিয়েছে বাফুফে।

সিডনির ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে গতকালও সকালে বাংলাদেশ নারী দল অনুশীলন করেছে। মেয়েরা দুই দলে ভাগ হয়ে অনুশীলন ম্যাচ খেলেছে। নতুন আসা সুইডিশ প্রবাসী খেলোয়াড় আনিকা রানিয়া সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় অনুশীলন কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আনিকা জানিয়েছেন,

“এখানে প্রচুর গরম, তবে আমরা মানিয়ে নিচ্ছি এবং প্রতিদিন আরও উন্নতি হচ্ছে। দলের সবার মধ্যকার বোঝাপড়াও ভালো হচ্ছে।”

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অস্ট্রেলিয়া ক্যাম্প সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
অবস্থানসিডনি, অস্ট্রেলিয়া
অনুশীলনের জায়গাভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্ক
তাপমাত্রা২৮° সেলসিয়াস
ফিজিও উপস্থিতিনেই (জাকিয়া রহমান স্বাস্থ্যজনিত কারণে অনুপস্থিত)
অনুশীলনের ধরনদুই দলে ভাগ হয়ে অনুশীলন ম্যাচ
নতুন খেলোয়াড়আনিকা রানিয়া (সুইডেন প্রবাসী)

বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, মূল আসরে ফিজিওর অভাব বাংলাদেশ দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষ করে চোট বা আকস্মিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সময় কোনো প্রফেশনাল চিকিৎসক দলের সঙ্গে না থাকায় খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

দলের কোচিং স্টাফ ও বাফুফে আশা করছে, অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত একজন ফিজিও যোগ দেবেন এবং খেলোয়াড়রা নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারবে।