চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ এলাকায় বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের ভাই হাফিজুর রহমান নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষটি ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘটে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
Table of Contents
সংঘর্ষের কারণ ও সূত্রপাত
জীবননগরের হাসাদাহ ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এবং বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় কিছুদিন আগে। এই বিরোধের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি সুটিয়া গ্রামের জামায়াত কর্মী মাহদি হাসানকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়, যার কারণে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে মাহদি হাসান এবং তার বাবা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান এবং তার ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এর পরই উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং একে অপরকে গুরুতর আহত করতে থাকে।
সংঘর্ষের পরিণতি ও হতাহতের সংখ্যা
এ সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হন। তিনি হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই ছিলেন এবং স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে যশোর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়, যেখানে রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় মোট ছয়জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে চারজনকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থাও গুরুতর ছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী
সংঘর্ষের পর পুরো এলাকা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবননগর থানার পুলিশসহ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনও বিদ্যমান রয়েছে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন আহতদের খোঁজ-খবর নিতে হাসপাতালে যান।
প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ
ঘটনার পর প্রতিবাদ জানাতে জামায়াতের পক্ষ থেকে ১ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় জীবননগর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা জুড়ে পরিক্রমণ করে এবং হামলার প্রতিবাদ জানায়। মিছিলকারীরা দোষীদের শাস্তির দাবি জানায়।
দুই পক্ষের দাবি ও অভিযোগ
জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি ও ৯নং ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার জানান, “পূর্ব শত্রুতার কারণে বিএনপি এবং তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এতে জামায়াত নেতাদের চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এর মধ্যে মফিজুর রহমানের ভাই হাফিজুর রহমান মারা যান।”
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয় কাদের হামলায় জামায়াতকর্মী মারা গেছেন। আমি জানার চেষ্টা করছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য
জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, “পূর্ব শত্রুতার কারণে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, যার ফলে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ভাই হাফিজুর রহমান নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।”
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী
সংঘর্ষের পর শান্তি বজায় রাখতে জীবননগর থানার পুলিশসহ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনো বিদ্যমান।
হামলার পরিসংখ্যান
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সংঘর্ষের তারিখ | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
| সংঘর্ষের স্থান | জীবননগর, হাসাদাহ ইউনিয়ন |
| নিহত ব্যক্তির নাম | হাফিজুর রহমান |
| আহতদের সংখ্যা | ৬ জন |
| গুরুতর আহতদের সংখ্যা | ৪ জন |
| পুলিশের বক্তব্য | তদন্ত চলছে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে |
| সংসদ সদস্যদের মন্তব্য | আহতদের চিকিৎসায় এগিয়ে গেছেন |
