চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি কার্ড চালু

চুয়াডাঙ্গা জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ, পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ এবং নিয়ন্ত্রিত করতে ‘জ্বালানি কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেলের মজুদ, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যানবাহনের জন্য জ্বালানি কার্ড বিতরণ করা হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে নিবন্ধিত যানবাহনগুলো এই কার্ড সংগ্রহ করতে পারবে। এরপর ১ এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র জ্বালানি কার্ডধারী যানবাহনেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।

জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি তেলের অপব্যবহার রোধ, অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি বন্ধ করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তিনি আরও জানান, জেলার ২২টি পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে। তবে কৃষি খাতের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল ২৪ ঘণ্টা সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

জ্বালানি কার্ড সংগ্রহের জন্য যানবাহন মালিকদের কিছু নির্দিষ্ট তথ্য জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি। যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষ কার্ড ইস্যু করবে।

সভায় আরও কঠোর বার্তা দেওয়া হয় যে, কোনো পেট্রোল পাম্পে অনিয়ম, অতিরিক্ত মূল্য আদায় বা অবৈধ কার্যকলাপ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকদের দায়ী করা হবে। একই সঙ্গে বাজারে নজরদারি বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান জানান, ৩০ মার্চ থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন, বৈধ কাগজপত্রহীন এবং হেলমেটবিহীন মোটরযানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুদ বা কালোবাজারির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি পাচার রোধে বিজিবি চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এই উদ্যোগকে স্থানীয় প্রশাসন একটি আধুনিক ও নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে, যা ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং নিরাপদ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি কার্ড ব্যবস্থা সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়বিবরণ
কার্ড বিতরণের সময়৩০ ও ৩১ মার্চ
কার্যকর তারিখ১ এপ্রিল থেকে
কার্ড সংগ্রহের স্থানজেলা প্রশাসকের কার্যালয়
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রযানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, চালকের লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
জ্বালানি বিক্রির সময়সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা
মোট পেট্রোল পাম্প২২টি
কৃষি খাতে জ্বালানি সরবরাহডিজেল ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে
বিশেষ নির্দেশনাঅনিয়ম হলে পাম্প মালিক দায়ী থাকবেন