চুক্তিতে আগ্রহী ট্রাম্প, ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জোর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে একটি চুক্তির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘সম্পূর্ণ ও কঠোরভাবে’ কার্যকর করতে হবে।

বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে উপসাগরীয় আরব নেতাদের সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চাই। যদি সম্ভব হয়, কিছু করতে আগ্রহী। তবে তার আগে ইরানকে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ করতে হবে, রক্তক্ষয়ী ছায়াযুদ্ধ থামাতে হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা স্থায়ীভাবে ও পর্যবেক্ষণযোগ্যভাবে বন্ধ করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, তার প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে যে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা বিশ্বব্যাপী কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সকল দেশকে আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও ট্রাম্প ঠিক কোন নিষেধাজ্ঞার কথা বলছেন তা স্পষ্ট করেননি। তবে জানা গেছে, সম্প্রতি ইরানের তেল খাত ও পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে বড় পরাশক্তিদের স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রাখলে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতো।

চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, এমনকি ইরানি তেল কিনলে তৃতীয় দেশগুলোকেও শাস্তির হুমকি দেয়। ট্রাম্প বলেন, “তৃতীয় পক্ষীয় নিষেধাজ্ঞার প্রভাব অনেক সময় সরাসরি নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি ভয়াবহ হতে পারে।”

এদিকে, তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য ইসরাইলি হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চার দফা আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। দুই পক্ষই জানিয়েছে, আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক ছিল, তবে প্রযুক্তিগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এখনো হয়নি।

ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। এ বিষয়ে শুক্রবার তুরস্কে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাদের।