চীনের উত্তর-পশ্চিম শিনজিয়াং প্রদেশে শুক্রবার যান চলাচলের জন্য ২২.১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ তিয়ানশান শেংলি টানেল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। দেশটির সরকার এই টানেলকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে টানেল হিসেবে ঘোষণা করেছে। নতুন এই সুড়ঙ্গটি তিয়ানশান পর্বতমালার মধ্য দিয়ে নির্মিত, যা দীর্ঘ সময়ের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি যাত্রাকে মাত্র ২০ মিনিটে কমিয়ে দিয়েছে।
চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানির চেয়ারম্যান সং হাইলিয়াং জানান, টানেলটি একসঙ্গে দুটি বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, “এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এক্সপ্রেসওয়ে টানেল এবং মহাসড়ক সুড়ঙ্গগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গভীর উল্লম্ব শাফটের অধিকারী।”
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, তিয়ানশান শেংলি টানেল জি-০৭১১ উরুমকী–ইউলি এক্সপ্রেসওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ শিনজিয়াংয়ের শহরগুলোকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে তা একটি প্রধান পরিবহন করিডর হিসেবে কাজ করবে।
তিয়ানশান পর্বতমালা প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি শিনজিয়াংয়ের মধ্যভাগজুড়ে বিস্তৃত। উত্তরের সবচেয়ে বড় শহর ও প্রাদেশিক রাজধানী উরুমকীকে দক্ষিণের বড় শহর কোরলার সঙ্গে সংযুক্ত করা এই সুড়ঙ্গের মূল লক্ষ্য। এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ায় উরুমকী ও কোরলার মধ্যকার যাত্রার সময় প্রায় সাত ঘণ্টা থেকে কমে প্রায় তিন ঘণ্টায় নেমে এসেছে।
এই বিশাল প্রকল্পটি পাঁচ বছর ধরে নির্মিত হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ৩২৪.৭ কিলোমিটার এবং নির্মাণে মোট খরচ হয়েছে ৪৬.৭ বিলিয়ন ইউয়ান, যা প্রায় ৬.৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
নিচের টেবিলে প্রকল্প সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| টানেলের নাম | তিয়ানশান শেংলি টানেল |
| দৈর্ঘ্য | ২২.১৩ কিমি |
| গড়ে ওঠার সময় | ৫ বছর |
| খরচ | ৪৬.৭ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৬.৬৩ বিলিয়ন USD) |
| অংশ | জি-০৭১১ উরুমকী–ইউলি এক্সপ্রেসওয়ে |
| সংযোগ শহর | উরুমকী ও কোরলা |
| যাত্রা সময় | ৭ ঘণ্টা থেকে ৩ ঘণ্টা কমেছে |
| বিশেষত্ব | বিশ্বের দীর্ঘতম এক্সপ্রেসওয়ে টানেল, সবচেয়ে গভীর উল্লম্ব শাফট |
চীনের নতুন এই সুড়ঙ্গ কেবল যাতায়াত সহজ করবে না, বরং উত্তর–দক্ষিণ শিনজিয়াংয়ের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংযোগকেও শক্তিশালী করবে।
