চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা প্রশাসন ২০২৫ সালের জন্য জাতীয় ওষুধ ফেরতযোগ্য তালিকায় ১১৪টি নতুন ওষুধ যুক্ত করেছে। এ পদক্ষেপ গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসা খরচ কমাতে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিস্তৃত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন ওষুধগুলো ট্রিপল-নেগেটিভ স্তন ক্যানসার, অগ্ন্যাশয় ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে।
বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীরাও—যেমন ল্যাঙ্গারহানস সেল হিস্টিওসাইটোসিস এবং কিলেটর-অসহিষ্ণু থ্যালাসেমিয়া—সুবিধা পাবেন। এছাড়া ডায়াবেটিস, হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া ও অটোইমিউন রোগের রোগীরাও নতুন তালিকার সুবিধা ভোগ করবেন। এই হালনাগাদ তালিকা ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে, যা কোটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাড়াবে।
প্রশাসনের তথ্যে বলা হয়েছে, এ বছর প্রস্তাবিত ওষুধের ৮৮ শতাংশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা গত বছরের ৭৬ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এছাড়া, উদ্ভাবনী চিকিৎসাকে উৎসাহ দিতে তালিকার ৫০টি ওষুধকে ক্যাটাগরি-ওয়ান উদ্ভাবনী ওষুধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো বৈশ্বিকভাবে প্রথম ধরণের নতুন থেরাপি হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রশাসন একটি বাণিজ্যিক স্বাস্থ্যবীমা উদ্ভাবনী ওষুধ তালিকাও প্রকাশ করেছে। এতে ১৯টি উচ্চমূল্যের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো এখনও মৌলিক বীমার আওতায় নয়। তালিকায় ক্যানসারের CAR-T থেরাপি, নিউরোব্লাস্টোমা ও গশে রোগের চিকিৎসা, অ্যালঝেইমারের নতুন ওষুধসহ উন্নত চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ তালিকা বাণিজ্যিক বীমাধারীদের জন্য নতুন ওষুধে দ্রুত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।
নিম্নের টেবিলে সম্প্রসারণের পর চীনের জাতীয় বীমা তালিকার মূল তথ্য দেখানো হলো:
| শ্রেণি | ওষুধের সংখ্যা | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| মোট ওষুধ | ৩,২৫৩ | ১,৮৫৭টি পশ্চিমা রাসায়নিক, ১,৩৯৬টি চীনা ওষুধ |
| উদ্ভাবনী ওষুধ | ৫০ | নতুন থেরাপি, বিশ্বব্যাপী প্রথম ধরণের |
| বাণিজ্যিক উদ্ভাবনী | ১৯ | উচ্চমূল্যের, মৌলিক বীমায় অন্তর্ভুক্ত নয় |
| প্রধান রোগ কাভারেজ | ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী রোগ, মানসিক স্বাস্থ্য, বিরল অসুখ, শিশু চিকিৎসা | স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সম্প্রসারণ চীনের স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত এবং জনসাধারণের জন্য চিকিৎসা খরচ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি উদ্ভাবনী ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।