অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের মেয়েরা দ্বিতীয় ম্যাচেও পরাজিত হয়েছেন। চীনের বিপক্ষে ম্যাচের ফলাফল ২-০। প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পর শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরেছিলেন বাংলাদেশের দল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চীনের বিপক্ষে খেলায় ভুল কমানোর লক্ষ্য ছিল, যা কিছুটা সফল হলেও শেষ পর্যন্ত জয় সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের রক্ষণে প্রতিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা ছিল দৃঢ়। ম্যাচজুড়ে চীনের আক্রমণ বিরামহীন ছিল, কিন্তু গোলরক্ষক মিলি আক্তার বেশ কয়েকবার রুখে দেন বল। প্রথমার্ধে বিশেষভাবে ৪৩ মিনিটে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। বাংলাদেশেরও কিছু সুযোগ ছিল; বিশেষ করে সাগরিকার শট শেষ মুহূর্তে চীনের গোলকিপার আটকান। শেষপর্যন্ত প্রথমার্ধ গোলশূন্যের সমাপ্তি হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে খেলার গতিবেগ বদলানো হয় চীনের পক্ষে। শুরু মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে গোললাইনের কাছ থেকে ইউ শিন গুয়ে বল জালে ঠেলেন। বাংলাদেশের ডিফেন্ডারের ফাঁককে কাজে লাগিয়ে প্রথম গোল আসে, যা প্রতিরোধের প্রথম ফাটল সৃষ্টি করে। এরপরও বাংলাদেশ আক্রমণ চালায়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ ছিল চীনের হাতে। ৭১ মিনিটে আবারও মিলি আক্তারের অসাধারণ সেভ বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার আশা জাগায়।
শেষভাগে চীনের ওয়াং আইফাং নিখুঁত ফ্রি-কিক শটে গোল করেন (৮২ মিনিটে), স্কোরলাইন ২-০ এ উন্নীত হয়। মিলি আক্তার চেষ্টা সত্ত্বেও বল আটকাতে পারেননি। এরপরও চীনের তৃতীয় গোল হতে পারত, যদি বল বার উঁচিয়ে না যেত। শেষ মুহূর্তে ঝোউ শিনইয়ের শটও মিলি আক্তারের সেভে থেমে যায়।
টানা দুই ম্যাচ হারের পরও বাংলাদেশ শেষ আটে যাওয়ার সম্ভাবনা বজায় রেখেছে। তাদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ ৭ এপ্রিল ভিয়েতনামের সঙ্গে। এই ম্যাচে জয়লাভ করলে বাংলাদেশ সেরা দুটি তৃতীয় দলের মধ্যে একটি হয়ে শেষ আটে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশের ম্যাচের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
| ম্যাচ | প্রতিপক্ষ | ফলাফল | গোলদাতা (বাংলাদেশ) | গোলরক্ষক সেভ |
|---|---|---|---|---|
| ১ম | থাইল্যান্ড | ২-৩ হারা | সাগরিকা ২ | মিলি আক্তার ৪ সেভ |
| ২য় | চীন | ০-২ হারা | – | মিলি আক্তার ৫ সেভ |
বাংলাদেশের মেয়েরা প্রতিরোধের মানসিকতা দেখিয়েছে, যদিও চীনের অভিজ্ঞতা ও নিয়ন্ত্রণ তাদের জয় থেকে বিরত রাখে। ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচে জয়লাভে শেষ আটে যাওয়ার আশা রক্ষা করতে হবে।
