পেরুর কংগ্রেস মাত্র চার মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হোসে জেরিকে (হোসে জেরি) ক্ষমতাচ্যুত করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, চীনা ব্যবসায়ী ঝিহুয়া ইয়াং (Zhihua Yang) এবং তার সহযোগীর সঙ্গে সরকারি নথি বা সূচি ছাড়া বৈঠক করেছেন এবং তা গোপন রাখার চেষ্টা করেছেন। ঘটনা প্রকাশের পর রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেরি যদিও বৈঠকের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তিনি কোনো অনিয়ম স্বীকার করেননি। তিনি দাবি করেছেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে হেয় করার জন্য এই বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
পেরুর ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, কারণ এটি টানা তৃতীয় প্রেসিডেন্ট অপসারণ। এর আগে, গত বছরের অক্টোবর মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তে (দিনা বোলুয়ার্তে) অভিশংসনের মাধ্যমে পদচ্যুত হন এবং জেরি তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব নেন।
পেরুর সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন
| সাল | প্রেসিডেন্ট | দায়িত্বকাল | বরখাস্ত/অবসরের কারণ |
|---|---|---|---|
| ২০১৬ | পেদ্রো পেদ্রোয়া | ১ বছর | রাজনৈতিক অস্থিরতা |
| ২০১৮ | মার্টিন ভিজকারা | ২ বছর | কংগ্রেসের অভিশংসন |
| ২০২২ | পেদ্রো কাস্টিলো | ১ বছর | অভিশংসন ও অবরোধ |
| ২০২৩ | দিনা বলুয়ার্তে | ১ বছর | অভিশংসন |
| ২০২৫ | হোসে জেরি | ৪ মাস | ‘চিফা-গেট’ বিতর্ক |
২০১৬ সাল থেকে পেরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্বে ছিলেন। উল্লেখযোগ্য যে, জেরি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হননি; তিনি কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বলুয়ার্তের অভিশংসনের পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।
জেরি বরখাস্ত হওয়ার পর কংগ্রেস আগামী বুধবার নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের নাম ঘোষণা করবে। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আগামী এপ্রিলে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার আগে কয়েক মাসের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ককে স্থানীয়ভাবে ‘চিফা-গেট’ নামে ডাকা হচ্ছে। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, জেরি গভীর রাতে ইয়াংয়ের রেস্তোরাঁয় হুডি পরে প্রবেশ করছেন। বৈঠকে আরেকজন চীনা নাগরিকও উপস্থিত ছিলেন, যিনি পেরুর প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী অবৈধ কাঠ পাচার চক্রে জড়িত ছিলেন।
পেরুর আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে সব সরকারি বৈঠক নথিভুক্ত করতে হয়। জেরি এসব বৈঠকের কোনো রেকর্ড রাখেননি। এছাড়া রাষ্ট্রীয় চুক্তি ও সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছু পদক্ষেপের কারণে সমালোচনাও বেড়েছে। এই ঘটনা দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
