চীনের সামরিক পাইলটদের গোপনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর এক সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ যুদ্ধবিমান চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, যা এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি জেরাল্ড ব্রাউন (৬৫), যিনি একসময় মার্কিন বিমানবাহিনীর মেজর পদে কর্মরত ছিলেন এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তিনি এফ–৩৫ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষক পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম উন্নত স্টেলথ ফাইটার জেট হিসেবে বিবেচিত।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাউনকে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারি অনুমোদন ছাড়া চীনের সামরিক পাইলটদের প্রতিরক্ষা–সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং এই কাজে জড়িত থাকার জন্য ষড়যন্ত্র করেছেন।
মার্কিন ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাউন্টারইন্টেলিজেন্স বিভাগের সহকারী পরিচালক রোমান রোজাভস্কি বলেন, ব্রাউনের কর্মকাণ্ড সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। তার ভাষায়, “যাদের সুরক্ষার শপথ তিনি নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করতে সক্ষম করার জন্য তিনি প্রতিপক্ষ দেশের পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।”
জানা গেছে, ব্রাউন প্রায় ২৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ মিশনে অংশ নেন এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল ইউনিটের কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে অবসর নেওয়ার পর তিনি বাণিজ্যিক কার্গো পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে প্রতিরক্ষা ঠিকাদার হিসেবে মার্কিন পাইলটদের উন্নত যুদ্ধবিমান পরিচালনায় প্রশিক্ষণ দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রাউন চীনে যান এবং সেখানে অবস্থান করে চীনা সামরিক পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে মধ্যস্থতা করেন স্টিফেন সু বিন নামে এক চীনা নাগরিক, যিনি অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে সাইবার হামলার মাধ্যমে গোপন তথ্য চুরির ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্তের নাম | জেরাল্ড ব্রাউন |
| বয়স | ৬৫ বছর |
| পূর্ব পদবি | সাবেক মেজর, মার্কিন বিমানবাহিনী |
| বিশেষ দক্ষতা | এফ–৩৫ প্রশিক্ষক পাইলট |
| অভিযোগ | চীনা সামরিক পাইলটদের গোপন প্রশিক্ষণ |
| গ্রেফতারের স্থান | ইন্ডিয়ানা, যুক্তরাষ্ট্র |
| চীনে অবস্থানকাল | ডিসেম্বর ২০২৩ – ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| মধ্যস্থতাকারী | স্টিফেন সু বিন |
এই ঘটনা একক নয়। এর আগে সাবেক মার্কিন মেরিন কর্পস পাইলট ড্যানিয়েল ডাগানকেও একই ধরনের অভিযোগে ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেফতার করা হয়। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ ঠেকাতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন পশ্চিমা দেশগুলোর বর্তমান ও সাবেক সামরিক সদস্যদের দক্ষতা কাজে লাগানোর চেষ্টা বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ পাঁচটি দেশ এক যৌথ সতর্কবার্তায় জানিয়েছিল, এই ধরনের কার্যক্রম শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
এই প্রেক্ষাপটে ব্রাউনের গ্রেফতারি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি কড়া বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে—রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ও সামরিক দক্ষতার অপব্যবহার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
