চিলির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খনিজ সংস্থা কোডেলকো (Codelco) শনিবার ঘোষণা করেছে যে, বিশ্বের বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ তামার খনি এল টেনিয়েন্ট–এ ধসের পর আটকে পড়া পাঁচ শ্রমিকের মধ্যে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার, রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত রানকাগুয়ার এল টেনিয়েন্ট খনিতে।
এখানে একটি ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার ফলে খনির ভেতর আংশিক ধস নামে। এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, এটি প্রকৃত ভূমিকম্প ছিল কিনা, নাকি খনির কাজের কারণে কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল।
উদ্ধার অভিযান ও অবস্থান
| বিষয় | বিবরণ |
| আটকে পড়া শ্রমিকের সংখ্যা | ৫ জন |
| উদ্ধারে অংশ নেয়া সদস্য | প্রায় ১০০ জন |
| কাজের গভীরতা | প্রায় ১,২০০ মিটার ভূগর্ভে |
| ধসে নিহত ও আহত | ১ জন নিহত (নতুনভাবে পাওয়া), ৯ জন আহত |
কোডেলকোর এক বিবৃতিতে বলা হয়: “অনুসন্ধান অভিযানের সময় মানবদেহের কিছু অংশ পাওয়া গেছে, তবে সেগুলো এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।”
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
এল টেনিয়েন্ট খনির জেনারেল ম্যানেজার আন্দ্রেস মিউজিক বলেন: “এই দেহাবশেষ আবিষ্কার আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে, তবে এতে বোঝা যাচ্ছে যে আমরা সঠিক জায়গায় অনুসন্ধান করছি। নিখোঁজ অন্যান্য শ্রমিকদের খুঁজে বের করার কাজ আমরা অব্যাহত রাখব।”
চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক শনিবার খনি শ্রমিকদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের কাছে অনুসন্ধান অভিযান সম্পন্ন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
খনির পটভূমি ও উৎপাদন তথ্য
| তথ্য | বিবরণ |
| খনি চালুর সময় | ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে |
| টানেলের মোট দৈর্ঘ্য | ৪,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি |
| ২০২৩ সালের উৎপাদন | ৩,৫৬,০০০ মেট্রিক টন তামা |
| চিলির মোট উৎপাদনে অবদান | প্রায় ৭% |
চিলি হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ তামা উৎপাদনকারী দেশ।
২০২৪ সালে, দেশটি আনুমানিক ৫.৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন তামা উৎপাদন করেছে, যা বৈশ্বিক তামা সরবরাহের এক-চতুর্থাংশ প্রতিনিধিত্ব করে।
এই দুর্ঘটনা শুধু চিলির খনি শিল্পের ঝুঁকিগুলোকেই সামনে আনেনি, বরং বিশ্বব্যাপী খনিজ উত্তোলনে কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।
