চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন চার সন্তানের জননী নাসিমা বেগম (৩২) নামে গৃহবধূ। সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব পোয়া গ্রামে ওই গৃহবধূর বসতঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গৃহবধূ নাছিমা বেগম ওই গ্রামের মনা গাজী বাড়ির দিনমজুর হিরণ মিয়ার স্ত্রী। নাসিমা নিজ ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। লাশ উদ্ধারের সময় একটি চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। তাতে লেখা- ‘আমার স্বামীর দোষ নাই, আমার স্বামী আমাকে অনেক মায়া করে, আমি সংসারের কোনো কাজ করতে পারি না। আমার ছেলে-মেয়েদের দেখে রেখো স্বামী। আমারে কেউ কোনো কিছু করে নাই, আমার লাশ পুলিশে দিয়েন না।’

চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন চার সন্তানের জননী
মৃতের বোন হাসিনা বেগম বলেন, ‘২০ বছর আগে আমার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর আমার দুলাভাই বিদেশে চলে যান। বিদেশ থেকে আমার দুলাভাই ভালো কিছু করতে না পেরে ৭ বছর আগে দেশে চলে আসেন। সেই থেকে আমার বোনের মাথায় সমস্যা হয়। বিভিন্ন চিকিৎসকদের চিকিৎসা নিয়েও ভালো হয়নি। আমার বড় ভাগনির বিয়ে হয়েছে, বাকিদের নিয়ে সব সময় চিন্তা করত আমার বোন। আমার দুলাভাই দিনমজুরের কাজ করেন, কখনো অটোরিকশা চালান, আবার কখনো কৃষিকাজ করেন। হঠাৎ আজকে জানতে পারি আমার বোন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
নাসিমা বেগমের মেয়ে রাহেলা আক্তার (১০) বলেন, ‘আমার মা অসুস্থ, আমি মাকে দুধ চা আর রুটি নিজ হাতে সকালে খাওয়াইছি। পরে দাদির ঘরে গিয়েছি, সেখান থেকে ২ ঘণ্টাপর ঘরে খাবার খেতে এসে দেখি আমার মা ফাঁসি দিয়েছে। এ দেখে আমি চিৎকার দিলে মানুষ এসে পুলিশকে খবর দেয়।

ফরিদগঞ্জ পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল বলেন, গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।