চার দিনে ইতালিতে মুন্সীগঞ্জের তিন প্রবাসীর মৃত্যু

ইতালিতে চার দিনের ব্যবধানে মুন্সীগঞ্জের তিন প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) একই দিনে মারা গেছেন দুই প্রবাসী, এর আগে গত ২৮ অক্টোবর মারা যান আরও একজন।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের সাকিবুল ইসলাম (২৩) শুক্রবার রাতে ইতালির কালাব্রিয়া অঞ্চলের ক্রোতোনে (Crotone) শহরে মারা যান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ১১টার দিকে ঘুমের মধ্যে তিনি স্ট্রোক করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, একই দিনে মারা যান আরেক মুন্সীগঞ্জ প্রবাসী মুহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং ২০০৭ সাল থেকে ইতালির নাপলি শহরে বসবাস করছিলেন। কোভিড পরবর্তী সময়ে তিনি প্যারালাইজড হয়ে পড়েন এবং অবশেষে অসুস্থতার জটিলতায় মৃত্যুবরণ করেন। দেলোয়ার হোসেন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মামাসার গ্রামের সন্তান। তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে বর্তমানে নাপলিতেই বসবাস করছেন। বুধবার সন্ধ্যায় নাপলি শহরের বাইতুল ফালাহ ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে, গত ২৮ অক্টোবর ইতালির রোম শহরে মারা যান মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কাঠাদিয়া শিমুলিয়া ইউনিয়নের রহিমগঞ্জ গ্রামের মো. ইকবাল দেওয়ান (৩৮)। মঙ্গলবার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি মেট্রোরেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে সানজুবানি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।

ইতালির রোমে অবস্থানরত প্রবাসী সাংবাদিক ও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম চমক এই তিন প্রবাসীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ইকবালের স্ত্রী মিম জানান, “তিন বছর আগে আমার স্বামী ঋণ করে ইতালিতে যায়। মাত্র ছয় মাস আগে সে বৈধ হয়েছে, তার আগে অবৈধ থাকায় ঠিকভাবে কাজও করতে পারেনি। এখনো ১০-১২ লাখ টাকার ঋণ বাকি আছে। পরিবারের অবস্থাও ভালো নয়। ইকবাল চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে দুই ভাই আগেই মারা গেছেন। জীবিত ভাই কৃষিকাজ করেন, বোনদের অবস্থাও দুর্বল। আমাদের তিন সন্তান, বড়টা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে—ওরা এখনো বুঝতে পারছে না যে তাদের বাবা আর নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা তার মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছি। ওখান থেকে জানানো হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার জানানো হবে কবে মরদেহ দেশে আনা হবে।”