ধীরে ধীরে বাড়ছে রেমিটেন্স, চাপ কমছে রিজার্ভে। ডলার সংকটের কারণে গত বছর ব্যাপকহারে কমতে থাকে রেমিটেন্স ও রফতানি আয়। এ সংকট মোকাবেলায় নানা পদক্ষেপ নেয় সরকার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বাজারে ধারবাহিকভাবে ডলার ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ব্যাপকহারে রিজার্ভে চাপ বাড়ে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ১ হাজার ২৯৮ কোটি ডলার। তবে ঈদ সামনে রেখে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ায় রিজার্ভে চাপ কমছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলঅ হয়, চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১১৮ কোটি ডলার। এর আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিলো ৪ হাজার ৪১৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ কমেছে ১ হাজার ২৯৮ কোটি ডলার।
ধীরে ধীরে বাড়ছে রেমিটেন্স, চাপ কমছে রিজার্ভে
এদিকে ঈদ উপলক্ষে বেশি করে রেমিটেন্স আসা শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ডলার মার্কেট স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাই এখন থেকে রিজার্ভ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সেটি কমে দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে। এরপর প্রতি মাসেই রিজার্ভ কমেছে। আগস্টে ছিল ৩৯ দশমিক শূন্য ৬, সেপ্টেম্বরে ৩৬ দশমিক ৪৭, অক্টোবরে ৩৫ দশমিক ৮০, নভেম্বরে ৩৩ দশমিক ৭৮, ডিসেম্বরে ৩৩ দশমিক ৭৪, জানুয়ারিতে ৩২ দশমিক ২২ এবং সম্প্রতি রিজার্ভ আরও কমে দাঁড়িয়েছিল ৩১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।
এছাড়া আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলসহ বিভিন্ন তহবিলে দেয়া ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বাদ দিয়ে রিজার্ভের হিসাব করলে এর পরিমাণ আরও কম। তবে রেমিটেন্সের ফ্লো যেভাবে শুরু হয়েছে তাতে রিজার্ভ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আমদানি দায় পরিশোধ করতে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ধারাবাহিকভাবে ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন পর্যন্ত রিজার্ভ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। রিজার্ভের পতন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে এই ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে।
এদিকে ঈদ সামনে রেখে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) টানা দুই বিলিয়ন ডলার করে রেমিটেন্স এসেছিল। এর পরের মাস সেপ্টেম্বর থেকে টানা পাঁচ মাস দেড় বিলিয়ন ডলারের ঘরেই থেমে যায়।
এরপরে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আবারো বাড়তে থাকে রেমিটেন্স। বছরের শুরুর এই মাসে প্রবাসীরা প্রায় ১৯৬ কোটি ডলার পাঠায়। এরপরের মাসে কিছুটা কমে ১৫৬ কোটি ডলারের রেমিটেন্স আসে। তবে ঈদ উপলক্ষে সদ্য বিদায়ী মার্চ মাসে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন ২০১ কোটি ডলার।
