চাটমোহরে ভ্যান চালক হত্যা ঘটনায় গ্রেপ্তার

পাবনার চাটমোহরে এক কিশোর ভ্যানচালক ইমরান হোসেন (১৭) নিহত হওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে শোক এবং আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে আটক হয়েছেন ইমরানের চাচাতো ভাই সুমন হোসেন (২০) এবং তার দুই সহযোগী।

নিহত ইমরান শুকুরভাঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইমরান ভ্যান চালিয়ে সংসার চলে। নিহতের পরিবার দাবি করেছেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় সুমন হোসেন তার সহকর্মীর সঙ্গে ইমরানের ভ্যান ভাড়া নিয়েছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভ্যানটি সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চাটমোহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করেছিল। এরপর রাত ১০টার দিকে রামচন্দ্রপুর শ্মশান এলাকায় ইমরানকে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে সুমন ও তার দুই সহযোগী ইমরানকে হত্যা করে ভাঙ্গুড়া উপজেলার একটি বাড়িতে লাশ ফেলে আত্মগোপন করেন।

ইমরানের পরিবার সন্ধ্যায় তার সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় বাজারে এসে জানতে পারেন, তিনজন ইমরানের ভ্যান ভাড়া নিয়েছিল। পরে তারা সুমনের বাড়িতে গেলে, সুমনের অস্বাভাবিক আচরণের কারণে পুলিশকে খবর দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, “নিহতের শরীরে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে। তিনজনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।”

ঘটনাস্থল ও আটককৃতদের তথ্য

তথ্যবিষয়বিবরণ
নিহতের নামইমরান হোসেন
বয়স১৭ বছর
গ্রামের নামশুকুরভাঙ্গা, চাটমোহর, পাবনা
প্রধান অভিযুক্তসুমন হোসেন (চাচাতো ভাই)
সহযোগী২ জন পরিচয় অননুমোদিত
ঘটনার সময়১১ মার্চ, সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত
ঘটনার স্থানরামচন্দ্রপুর শ্মশান ও ভাঙ্গুড়া এলাকা
থানাচাটমোহর থানা, পাবনা

নিহতের পরিবার বলছে, ইমরানের মৃত্যু ভ্যান ছিনতাই এবং আত্মীয়ের বিশ্বাসঘাতকতার ফল। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তৎপর রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার পাশাপাশি অল্প বয়সী শ্রমজীবী শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া অত্যাবশ্যক। পুলিশের মতে, অল্প বয়সী ভ্যানচালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মোট ঘটনাটি স্থানীয় সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিবেশকে শঙ্কিত করেছে এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।