চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় রোববার সন্ধ্যায় রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষের অভিযোগ করেছে। ঘটনার কেন্দ্রে ছিল বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হারুনুর রশীদ এবং জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত একটি মিছিল। ঘটনা মেনিপাড়া এলাকায় সংঘটিত হয় এবং এতে গাড়ি ধাক্কাধাক্কি, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা ও শারীরিক হামলার অভিযোগ উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে উত্থাপিত হয়েছে।
হারুনুর রশীদ জানিয়েছেন, তিনি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক্রোবাসে যাচ্ছিলেন। মেনিপাড়া এলাকায় জামায়াতের মিছিলের মুখোমুখি হওয়ায়, মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশে দাঁড় করানো সত্ত্বেও মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা গাড়িতে ধাক্কাধাক্কি চালায় এবং গাড়িতে লাগানো ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে। হারুনুর রশীদ বলেন, “ভেতরে বসে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বেশিরভাগ ধাক্কাধাক্কি দেওয়া কিশোর বয়সী, যারা ভোটারও নয়।”
ঘটনার সময় তাঁর ছেলে, রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফি মাইক্রোবাস থেকে নেমে মিছিলের কর্মীদের সরিয়ে দেন এবং প্রতিবাদ জানান। হারুনুর রশীদ এই ঘটনার জন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারবিরোধী ও উসকানিমূলক আচরণকে দায়ী করেছেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, “রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফি আমাদের জেলা নেতা আজিজুল হক নূরের ওপর হামলা চালিয়েছেন। নির্বাচনী মাঠে এ ধরনের পেশিশক্তির প্রদর্শনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” তারা রুবাইয়াৎ ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। প্রতিবাদে রাতেই তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নূরে আলম জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিচের টেবিলে উভয় পক্ষের অভিযোগ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| পক্ষ | অভিযোগের বিষয়বস্তু | অভিযোগের প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|
| হারুনুর রশীদ (বিএনপি) | মাইক্রোবাসে ধাক্কাধাক্কি ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা | মেনিপাড়া এলাকায় জামায়াতের মিছিল চলাকালীন |
| জামায়াতে ইসলামী | রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফি হামলা | জেলা নেতা আজিজুল হক নূরের ওপর |
এই ঘটনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচনী উত্তাপ এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে এটি উদ্বেগ ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে নির্বাচনী পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকার ওপর কেন্দ্র করে।









