কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার লক্ষণপুর বাজারে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংঘটিত এই ঘটনায় অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম মনোহরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষণপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জহিরের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ধারালো সরঞ্জাম নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের সার ও কীটনাশকের দোকানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দোকানে ঢুকে ভাঙচুর করে এবং নগদ অর্থ লুটের চেষ্টা করে। এ সময় দোকানে উপস্থিত জাহাঙ্গীর আলমকে না পেয়ে তার ভাগিনা নাছির উদ্দীন ভূঁইয়াকে লক্ষ্য করে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে দোকানের পেছনের অংশে অবস্থানরত জাহাঙ্গীর আলমকেও খুঁজে পেয়ে হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, নাছির উদ্দীনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে জাহাঙ্গীর আলমও গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এর আগে একই চক্র তার কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করে। সম্প্রতি আবারও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তাকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সর্বশেষ দাবি পূরণ না করায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে মো. জহির (৩০), মো. ইব্রাহিম, মোহাম্মদ রাসেল, মো. মিনহাজ, আবু সায়েদ ও তানভীর হোসেনসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত জহির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি একটি মিছিলে ছিলেন এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করার আহ্বান জানান।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনাটি স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, বাজার এলাকায় টহল জোরদার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন দাবি করেছেন।
নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | লক্ষণপুর বাজার, মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা |
| ঘটনার সময় | সোমবার, সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট |
| হামলার কারণ | পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি |
| আহতের সংখ্যা | ২ জন (একজন গুরুতর) |
| প্রধান অভিযুক্ত | মো. জহিরসহ ১০-১৫ জন |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা |
| পূর্ব ঘটনা | পূর্বে ১.৫ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ |
| আইনগত অবস্থা | থানায় অভিযোগ, তদন্ত চলমান |
এ ধরনের সহিংসতা ও চাঁদাবাজির ঘটনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে স্থানীয় ব্যবসা পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
