নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা টানা তিন দিন ধরে তাদের দোকান বন্ধ রেখেছেন। এতে শুধু শহরের বাসিন্দাই নয়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকার ও ক্রেতারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চাঁদাবাজদের বিচারের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা দোকান খোলার পরিকল্পনা করছেন না।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সৈয়দপুর মাছ বাজার পরিদর্শনকালে দেখা যায়, বাজারের সব দোকান বন্ধ এবং বাজারে শূন্যতা বিরাজ করছে। এর আগে বিকেলে ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি ও হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
ঘটনার পেছনের কারণ
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গোয়ালপাড়া এলাকার ওয়াকার আলী ও তার সহযোগীরা নিয়মিতভাবে মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, ক্ষিপ্ত হয়ে তারা কয়েকজন ব্যবসায়ীকে মারধর করেন।
ঘটনার পর ব্যবসায়ীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং প্রতিবাদ হিসেবে সব দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি শুরু করেন। এই অবস্থার কারণে ক্রেতা ও পাইকাররা বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন।
মাছ ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন,
“আমরা অনেক দিন ধরেই চাঁদা দিয়ে আসছি। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি বদলেছে, তাই আর দিতে চাই না। মাছ বিক্রি করে পরিবার চালানোই কষ্টকর, সেখানে চাঁদা দেব কীভাবে?”
আরেক ব্যবসায়ী নওশাদ হোসেন পলু বলেন,
“চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তারা আমাদের মারধর করেছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি এবং সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত সব দোকান বন্ধ রাখবো। বিচার না হলে আরও বড় আন্দোলনে যাব।”
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযোগকারী | সৈয়দপুর মাছ ব্যবসায়ীরা |
| অভিযুক্ত | ওয়াকার আলী ও সহযোগীরা |
| ঘটনার ধরন | চাঁদাবাজি, হুমকি ও মারধর |
| দোকান বন্ধের সময়কাল | ৩ দিন (৯-১১ জানুয়ারি) |
| প্রতিবাদ রূপ | দোকান বন্ধ রাখা, বিক্ষোভ মিছিল, থানায় অভিযোগ |
| পুলিশি পদক্ষেপ | লিখিত অভিযোগ তদন্তাধীন |
| ক্রেতা ও পাইকার প্রভাব | চরম ভোগান্তি, বিকল্প বাজার খোঁজা বাধ্যতামূলক |
বাজার বন্ধ থাকায় শহরের স্থানীয় অর্থনীতি ও মাছের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দ্রুত বিচার না হলে আন্দোলন আরও বড় রূপ নিতে পারে।
