চাঁদপুর সদর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় রাহেলা আক্তার শান্তা (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘোষেরহাট নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শান্তা উপজেলার বড় শাহতলী এলাকার শামছুল হুদার মেয়ে এবং স্থানীয় জিলানী চিশতী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে কলেজ থেকে ফেরার পথে ঘোষেরহাট এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন শান্তা। এসময় চাঁদপুরগামী ‘আইদি পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস বেপরোয়া গতিতে এসে তাঁকে সজোরে চাপা দেয়। বাসের ভারী চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই শিক্ষার্থী। ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত পথচারীরা স্তব্ধ হয়ে যান। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিকে আটকের চেষ্টা করলেও চালক দ্রুত গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং দোষী চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে।
নিহত শিক্ষার্থীর তথ্য ও দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিচে সারণি আকারে দেওয়া হলো:
সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যচিত্র: চাঁদপুর সদর
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
| নিহতের পরিচয় | রাহেলা আক্তার শান্তা (১৮) |
| পিতার নাম | শামছুল হুদা |
| শিক্ষাগত পরিচয় | দ্বাদশ শ্রেণি (বিজ্ঞান বিভাগ), জিলানী চিশতী কলেজ |
| দুর্ঘটনার সময় | বুধবার দুপুর, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ |
| ঘটনাস্থল | ঘোষেরহাট, চাঁদপুর সদর উপজেলা |
| দুর্ঘটনার ধরন | রাস্তা পারাপারের সময় বাসচাপা |
| অভিযুক্ত পরিবহন | আইদি পরিবহন (যাত্রীবাহী বাস) |
| আইনি অবস্থা | মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান |
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও জননিরাপত্তা
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক বাস ও চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ
চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রুটে চলাচলকারী বাসগুলোর চালকরা প্রায়ই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গতির সীমাবদ্ধতা মেনে চলে না। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজের সামনে গতিরোধক বা ট্রাফিক সংকেত না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। শান্তার মৃত্যু আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, সড়কে শৃঙ্খলা না ফিরলে এমন বহু মেধাবী প্রাণের অকাল ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব নয়।
একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ছিল বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, কিন্তু ঘাতক বাসের চাকা সেই স্বপ্নকে চিরতরে পিষে দিল। সড়ককে নিরাপদ করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।
