চাঁদপুরের কচুয়া এলাকায় বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে একটি গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন। আহতদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ই রয়েছেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর দগ্ধদের উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁদের বার্ন ইনস্টিটিউটের অরেঞ্জ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধদের পরিচয় ও আহতের মাত্রা নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | দগ্ধের পরিমাণ | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| খাদিজা | ৩০ | ৩৫% | আশঙ্কাজনক |
| মাহমুদুল | ৩৫ | ৪% | স্থিতিশীল |
| শিউলি আক্তার | ৪০ | ২% | স্থিতিশীল |
ডা. শাওন বিন রহমান আরও জানান, খাদিজার দগ্ধের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। মাহমুদুল ও শিউলি আক্তারের দগ্ধের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তারা স্থিতিশীল রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়া উঠতে শুরু করে। দ্রুত আশপাশের লোকজন দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, গ্যাস লাইনটি দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ফাটল ধরেছিল।
চাঁদপুরের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং লিকেজের কারণ খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি, তারা সাধারণ জনগণকে সতর্ক করেছেন যেন বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগে কোনও দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়।
এই ঘটনা পুনরায় মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, গ্যাস লাইন ব্যবহারে সতর্কতা অপরিহার্য। বিশেষ করে পুরোনো বা রক্ষণাবেক্ষণহীন লাইনগুলো সময়মতো পরীক্ষা ও মেরামত করা অত্যন্ত জরুরি। উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই দগ্ধদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁদের সুস্থতার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন।
