চলন্ত ট্রেনে যন্ত্রাংশ চুরি: বিকল এসি কোচ রেখেই যাত্রা

বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরির এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি এসি কোচের ছাদ থেকে কনডেন্সার কয়েল চুরি হওয়ায় ওই কোচের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়ে। এর ফলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনটিকে একটি কোচ কম নিয়েই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করতে হয়েছে। এই ঘটনায় ট্রেনের কারিগরি নিরাপত্তা এবং রেলের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

চুরির ঘটনা ও তাৎক্ষণিক প্রভাব

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনটি বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে পঞ্চগড় পৌঁছায়। ট্রেনটি স্টেশনে ভেড়ার পর বৈদ্যুতিক বিভাগের কর্মীরা নিয়মিত পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, একটি এসি কোচের ছাদের ওপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ কনডেন্সার কয়েলটি উধাও। ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকা থেকে পঞ্চগড় আসার পথে চলন্ত অবস্থাতেই চোরচক্র অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই যন্ত্রাংশটি খুলে নিয়ে গেছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও প্রভাব:

বিষয়বিবরণ
আক্রান্ত ট্রেনদ্রুতযান এক্সপ্রেস (আসার সময়) ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (যাওয়ার সময়)।
চুরিকৃত যন্ত্রাংশএসির কনডেন্সার কয়েল (কোচের ছাদে অবস্থিত)।
আসন সংখ্যা৭৮টি (এসি সিগ্ধা কোচ)।
যাত্রী ভোগান্তিঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরের যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত।
চলাচল স্থিতি২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৩টির পরিবর্তে ১২টি কোচ নিয়ে চলাচল করবে।

কারিগরি ও নিরাপত্তা সংকট

পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের বৈদ্যুতিক বিভাগের কর্মীদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার চলন্ত ট্রেন থেকে এ ধরনের মূল্যবান তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত ট্রেন যখন ধীরগতিতে চলে বা আউটার সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সংঘবদ্ধ চোরচক্র ট্রেনের ছাদে উঠে দ্রুততার সাথে স্ক্রু ও পাইপ কেটে কয়েল নিয়ে পালিয়ে যায়। একটি ট্রেনের এসি কোচ সচল রাখার জন্য কনডেন্সার কয়েল অপরিহার্য; এটি ছাড়া কম্প্রেসর কাজ করতে পারে না, ফলে কোচটি যাত্রী পরিবহনের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও ভোগান্তি

পঞ্চগড় রেলস্টেশনের মাস্টার জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, যন্ত্রাংশ চুরির ফলে কোচটি বিকল হয়ে পড়ায় সেটিকে মূল রেক থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা রাখা হয়েছে। মেরামত না হওয়া পর্যন্ত এটি যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। যদিও পঞ্চগড় থেকে এই কোচের কোনো টিকিট বরাদ্দ ছিল না, তবে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর থেকে অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ওই যাত্রীদের মুঠোফোনে বিষয়টি অবহিত করেছে এবং স্টেশনে টিকিটের অর্থ ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা করেছে।

এই ঘটনাটি রেলওয়ের নিরাপত্তা প্রহরীদের (আরএনবি) টহল এবং সিসিটিভি নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে এভাবে যন্ত্রাংশ চুরি হওয়া কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং জাতীয় সম্পদের ওপর চরম আঘাত এবং যাত্রী নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।