চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের প্রবৃদ্ধি

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য জীবন্ততা এবং বিনিয়োগকারীদের উচ্চ আগ্রহের ছবি উপস্থাপন করেছে। ৩২২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২৩৫টির শেয়ার মূল্য বেড়েছে, ৭০টির দাম কমেছে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই তথ্য বাজারে সামগ্রিক ইতিবাচক প্রবণতা ও বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রমাণ বহন করছে।

সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই (CASPI) গত সপ্তাহে ২.০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫,৩৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, সিএসসিএক্স (CSCX) সূচক ১.৬৯ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে ৯,৪৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এই ঊর্ধ্বমুখী সূচক বাজারের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রকাশ।

খাতভিত্তিক লেনদেনের চিত্র

বাজার বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাংক, ওষুধ ও রসায়ন এবং বস্ত্র খাতের শেয়ারগুলোতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে। অন্যান্য খাতের শেয়ারও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইতিবাচক রিটার্ন প্রদর্শন করেছে।

খাতলেনদেনের পরিমাণ (কোটি টাকা)দর বৃদ্ধির সংখ্যাদর হ্রাসের সংখ্যাঅপরিবর্তিত সংখ্যা
ব্যাংক২০.৫৫৮১২
ওষুধ ও রসায়ন১৫.৩৪২২০
বস্ত্র১২.৮৩৫১৫
অন্যান্য খাত৪৫.৭১০০২৩
মোট৯৪.৩৮২৩৫৭০১৭

বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ও বিশ্লেষণ

বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, লেনদেনের এই বৃদ্ধি প্রধানত স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর অর্থনৈতিক আশাবাদের কারণে। বিশেষ করে ব্যাংক ও ওষুধ খাতের শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদেরও অংশগ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় বাজার আরও গতিশীল ও প্রাণবন্ত হয়েছে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই প্রবণতা বজায় থাকলে আগামী সপ্তাহেও সিএসইতে লেনদেনের চাপ ও শেয়ারের দর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন খাত পর্যবেক্ষণ করছেন, যা দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

মোটমাট, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে এই সপ্তাহের লেনদেনের বৃদ্ধি ও শেয়ার দর বৃদ্ধি বাজারে ইতিবাচক মনোভাব এবং ভবিষ্যতের বিনিয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশের পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।