চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবার সন্ধ্যায় একটি ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে জামাত-এ-ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে। এই মন্তব্যটি X (প্রাক্তন টুইটার) প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয় এবং তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করে।
বিক্ষোভটি সন্ধ্যা ৭টায় গোলচত্তর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনারে পৌঁছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা বক্তব্য প্রদান করে ও অনলাইন পোস্টটির নিন্দা জানায়। আয়োজকরা মন্তব্যটিকে নারী সম্মানহানিকর ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করেন।
ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং তৃতীয় বর্ষের স্পোর্টস সায়েন্সের শিক্ষার্থী শৃতি রাজ চৌধুরী বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলাম যেখানে বৈষম্য থাকবে না। আজ সেই স্বপ্নের সামনে নতুন হুমকি দেখা দিয়েছে। ধর্মের আড়ালে জামাত নারীর মর্যাদা হানিকারক কাজ করছে। তাদের প্রকৃত চেহারা জনগণের সামনে আনা জরুরি।”
ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে কর্মরত মা এবং বোনরা আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাদের অবমূল্যায়ন করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ইসলাম নারীর সর্বোচ্চ মর্যাদা শিক্ষায় দেয়, কিন্তু জামাতের পোস্ট তা লঙ্ঘন করছে।”
চতুর্থ বর্ষের মার্কেটিং শিক্ষার্থী ও ‘নারী আঙণ’ আয়োজক সুমাইয়া শিকদার বলেন, “যদিও জামাত দাবি করেছে যে আমিরের একাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল, তবুও এই পোস্ট ঐতিহ্যবাহী নারীবিদ্বেষী মনোভাবকে প্রতিফলিত করে। রাষ্ট্রকে এমন হামলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বিক্ষোভে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ফজুন্নেসা হল স্টুডেন্টস কাউন্সিলের স্বাস্থ্যের সম্পাদক তাসফিয়া তাবাসুম, জান্নাতুল ফেরদৌস এবং অন্যান্য নারী আঙণ সদস্যরা। ক্যাম্পাসজুড়ে “সোনার বাংলায় নারী নির্যাতনের স্থান নেই” এবং “ধর্মীয় শাসনের দাঁত ভাঙো” স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করা হয়েছে। জামাত-এ-ইসলামী দাবি করেছে যে পোস্টটি হ্যাক হওয়া একাউন্টের কারণে এবং এটি দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা মতপ্রকাশ নয়।
বিক্ষোভ সংক্রান্ত তথ্যসারণী:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বিক্ষোভকারী | ছাত্রলীগ ও নারী আঙণ সদস্যরা |
| মিছিলের পথ | গোলচত্তর থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত |
| অংশগ্রহণকারী সংখ্যা | প্রায় ৫০ শিক্ষার্থী |
| মূল বার্তা | নারীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্যের নিন্দা; রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবি |
| জামাতের দাবি | আমিরের একাউন্ট হ্যাক; পোস্ট ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর |
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের নারীর অধিকার রক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ধর্মীয় আড়ালে নারীবিদ্বেষ প্রচারের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।
