চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি হস্তান্তরে ধর্মঘট

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার প্রতিবাদে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার নতুন কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত আট ঘণ্টার ধর্মঘটের পর শ্রমিক-কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, সরকার দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক এই স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তর করে জাতীয় স্বার্থে ক্ষতি করছে।

শ্রমিক নেতারা আরও জানাচ্ছেন, কর্মসূচির মধ্যে সরকার তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিভিন্ন কর্মচারীকে বদলি ও হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। গত শনিবার ও রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের ১৬ জন কর্মচারীকে পানগাঁও ও কমলাপুর ইন্টারন্যাশনাল কন্টেইনার ডিপোতে (আইসিডি) বদলি করা হয়। সোমবার মন্ত্রণালয়ের নতুন আদেশে তাদের মধ্যে ১৫ জনকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন কর্মস্থলে কেউ যোগ দেয়নি এবং যোগদানের বিষয়ে শ্রমিকদের অবস্থান এখনও অটল।

বন্দর কর্তৃপক্ষ এই আন্দোলনকে সরকারের বা আদালতের অনুমোদনের বাইরে বলেছে এবং এ ঘটনায় ‘মহলবিশেষের ইন্ধন’ থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। টানা তিন দিনের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র জরুরি পণ্য বহনকারী ৩৫টি মাদার ভেসেল বন্দরের বহির্ণোঙ্গরে অপেক্ষমাণ রয়েছে। বন্দর সম্পর্কিত বেসরকারি ডিপো ও অফডকেও কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মবিরতি সংক্রান্ত মূল তথ্য নিম্নরূপ:

বিষয়বিস্তারিত
কর্মবিরতি সময়কাল২৪ ঘণ্টা (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা)
পূর্ববর্তী ধর্মঘট৩ দিন, প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে
বদলি হওয়া কর্মচারী১৬ জন, যার মধ্যে ১৫ জন মোংলা ও পায়রা বন্দরে পাঠানো হয়েছে
কনটেইনার জমা৩৭,০০০টি
অপরেশনাল ভেসেল৩৫টি মাদার ভেসেল
প্রশাসনিক প্রভাববন্দরে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ, ট্রাক-লরির চলাচল নেই
অফডক প্রভাবকনটেইনার জট, রপ্তানিতে ধীরগতি

সোমবার সকালে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) ব্যানারে আগ্রাবাদ চৌমুহনি থেকে কালোপতাকা মিছিল বের হয়। ‘এনসিটি ইজারা দেওয়ার দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি বন্ধ করো’ শীর্ষক ব্যানার ও কালোপতাকা নিয়ে মিছিলটি বারিক বিল্ডিং মোড়ে পুলিশ দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়। দুপুরে বন্দর ভবন চত্বরে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ২৪ ঘণ্টার নতুন কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, “শ্রমিকরা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এনসিটি বিদেশিদের না দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। সরকার এ দাবি অগ্রাহ্য করে চুক্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, সোমবার ১,৫৮৭ টিইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি হওয়ার কথা ছিল। তবে ধর্মঘটের কারণে কার্যক্রম সীমিত ছিল। বিকল্প পদ্ধতিতে পণ্য খালাস না হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণ চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম যেকোনো মূল্যে সচল রাখতে হবে।