চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে আরও চার জ্বালানি জাহাজ

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছে বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। গত দুই সপ্তাহে বন্দরে ২৩টি বড় জাহাজ তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি নিয়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে আরও চারটি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমার পথে রয়েছে, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বন্দরে নোঙর করবে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ে আসা জাহাজগুলোর মধ্যে এলএনজি, এলপিজি, ডিজেল এবং বেইজ অয়েল রয়েছে। বেশিরভাগ জাহাজ খালাস সম্পন্ন করেছে, এবং কয়েকটিতে এখনও খালাস চলছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম এমন সময়েই জোরালো রয়েছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে যায়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের থেকে জাহাজগুলো আসছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর, ভারত, মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো রয়েছে। তবে বিশেষ লক্ষ্যণীয় যে, এসব জাহাজের বেশিরভাগ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির আগে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে চারটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজগুলোর উৎস দেশ ও জ্বালানির ধরন নিচের টেবিলে দেখানো হলো:

ক্রমিক নংউৎস দেশজাহাজে থাকা জ্বালানিমন্তব্য
এঙ্গোলাএলপিজিখালাস হবে বন্দরে আসার পর
ওমানএলপিজিআগমন 예정 ২৩ মার্চ
মালয়েশিয়াএলএনজিনোঙর করার পর খালাস শুরু
থাইল্যান্ডবেইজ অয়েলনোঙর করার পর সরবরাহ শুরু

বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই চার জাহাজের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়তা আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে এই ধরনের সুনিশ্চিত সরবরাহ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে দৃঢ় রাখবে।

চট্টগ্রাম বন্দর এসময় আরও সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং সমস্ত নিরাপত্তা ও পরিদর্শন ব্যবস্থা জোরদার করেছে যাতে কোনো ধরনের জ্বালানি সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি না হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে লজিস্টিক ও জাহাজ চলাচলে জটিলতা থাকলেও দেশীয় জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই ফলপ্রসূ হচ্ছে, এবং আগামি সপ্তাহগুলোতে আরও চারটি জাহাজ আগমনের সঙ্গে এই প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে।