চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এই গোলাগুলিতে এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন:
মোহাম্মদ ইশতিয়াক হাসান ইমন (২৬)
মো. জসিম (৩৫)
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা চালিতাতলী এলাকায় একটি বাসায় অবস্থান করছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে অভিযানে নামে। অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা বাসার ভেতর থেকে গুলি চালাতে শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে এক সন্ত্রাসীকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়, অপরজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বিপুল অস্ত্র ও মাদকসহ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী সিএমপির মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত সামগ্রী ছিল:
| ক্রমিক | উদ্ধারকৃত সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | বিদেশি পিস্তল | ২টি |
| ২ | এসএমজি | ১টি |
| ৩ | পাইপগান | ১টি |
| ৪ | পিস্তলের ম্যাগাজিন | ৩টি |
| ৫ | পিস্তলের তাজা গুলি | ৪৫৫ রাউন্ড |
| ৬ | শটগানের তাজা কার্তুজ | ১৪টি |
| ৭ | দেশীয় অস্ত্র | অজ্ঞাত |
| ৮ | ইয়াবা ও এমডিএমএ | ৮৮০ পিস |
| ৯ | বডি ওর্ন ক্যামেরা | ২টি |
| ১০ | অস্ত্র মেরামতের কিট বক্স | ১টি |
| ১১ | মোটরসাইকেল | ১টি |
ওয়াহিদুল হক চৌধুরী আরও জানান, গ্রেপ্তার দুইজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদক বড় সাজ্জাদের গ্রুপের সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করত। পুলিশ বর্তমানে অস্ত্র ও মাদকের উৎস চিহ্নিত করতে তদন্ত চালাচ্ছে।
তিনি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলেন, “নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পুলিশ ২৪ ঘণ্টা মাঠে অবস্থান করছে এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবসময় প্রস্তুত।”
এই অভিযানের ফলে শহরে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ধাক্কা লেগেছে। উদ্ধারকৃত সামগ্রী যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং এর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের এই উদ্যোগকে শহরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা যদিও কিছুটা উদ্বিগ্ন, তবে পুলিশের সতর্কতা ও দ্রুত কার্যক্রমের কারণে নগরবাসীর জন্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
