চট্টগ্রামে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় পরিবার শোকাহত

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত র‍্যাব-৭-এর ডেপুটি এডিশনাল ডিরেক্টর (ডিএডি) মোতালেব হোসেনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার গভীর শোক ও বেদনায় মুহ্যমান। দায়িত্ব পালনের সময় নির্মমভাবে প্রাণ হারানো এই কর্মকর্তার পরিবার শুধু একজন স্বামী ও পিতাকেই হারায়নি, হারিয়েছে একজন আদর্শ দেশপ্রেমিককে—এমনটাই বলছে তাঁর স্বজনেরা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত র‍্যাব-৭ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিহত কর্মকর্তার স্ত্রী শামসুন্নাহার কান্নায় ভেঙে পড়েন। শোকাকুল কণ্ঠে তিনি বলেন, তাঁর স্বামী ছিলেন নিষ্ঠাবান, সাহসী ও আপসহীন একজন মানুষ। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তিনি সব সময় নিজেকে প্রস্তুত রাখতেন এবং পরিবার ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করতেন। শামসুন্নাহারের ভাষায়, “দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত একজন মানুষকে এভাবে হত্যা করা কি ন্যায়ের মধ্যে পড়ে? যদি একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তার পরিণতি এমন হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কে রাষ্ট্রের সেবায় এগিয়ে আসবে?”

তিনি আরও জানান, মরদেহ দেখার পর সেই দৃশ্য তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। শরীরজুড়ে গুলির চিহ্ন, ভাঙা হাড় ও রক্তাক্ত অবস্থার কথা বলতে গিয়ে তিনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার সাহস না পায়।

নিহত মোতালেব হোসেনের বড় ছেলে মেহেদি হাসান ভুঁইয়া তেজগাঁও কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বাবার হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে থেকেও একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এভাবে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হবেন—এটা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি সরকারের কাছে হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ সময় শামসুন্নাহারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের দুই কন্যা—শামিমা জান্নাত ও ইশরাত জাহান মুনতাহা। ছোট মেয়ে মুনতাহাকে মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দিতে দেখা যায়, যা উপস্থিত সবার চোখে জল এনে দেয়।

মৃত্যুর খবর প্রথমে ঢাকার পিলখানার বাসায় টেলিভিশনের স্ক্রল দেখে জানতে পারেন পরিবারটি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শামসুন্নাহার সন্তানদের নিয়ে রাতের মধ্যেই চট্টগ্রামে ছুটে আসেন।

নিহত কর্মকর্তার পারিবারিক ও শিক্ষাগত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো—

নামসম্পর্কবয়স/শিক্ষা
মেহেদি হাসান ভুঁইয়াবড় ছেলেতেজগাঁও কলেজ, পরিসংখ্যান বিভাগ, অনার্স ১ম বর্ষ
শামিমা জান্নাতকন্যাদশম শ্রেণি
ইশরাত জাহান মুনতাহাকন্যাপঞ্চম শ্রেণি
শামসুন্নাহারস্ত্রীগৃহিণী

র‍্যাব ও স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।