চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ও আটজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম মহানগরীতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ব্যানারে আকস্মিক ঝটিকা মিছিল করার প্রচেষ্টাকালে ব্যানারসহ সংগঠনের আটজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ভোরে নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন রাইফেল ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃতরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পুলিশের অভিযান

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, শুক্রবার ভোররাতে আওয়ামী যুবলীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ব্যানারে একদল যুবক নগরীর কোতোয়ালি মোড় ও রাইফেল ক্লাব এলাকায় অতর্কিতে একটি ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এ সময় তাঁরা সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে আটজনকে ধাওয়া করে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁদের হাতে থাকা মিছিলের ব্যানার ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই এই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অনেকটা নিষ্ক্রিয় ও আত্মগোপনে ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভোরবেলা বা নির্জন সময়ে এই ধরনের সংক্ষিপ্ত মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও আবাসস্থল

গ্রেপ্তারকৃত আটজন চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরীর বাসিন্দা। তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় নিচে একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

ক্রমিকনাম ও বয়সপিতার নামস্থায়ী ঠিকানা/থানা
মো. তুষার (২০)দিদারুল আলমচাঁপাছড়ি, বাঁশখালী
আব্দুল্লাহ আল নোমান (২০)আবুল কালাম আজাদফতেয়াবাদ, হাটহাজারী
মো. রাকিব (১৯)মো. স্বপনফতেয়াবাদ, হাটহাজারী
ইব্রাহীম হোসেন বাবু (২২)(মৃত) জাহাঙ্গীর আলমফতেয়াবাদ, হাটহাজারী
মো. শরীফ হোসেন মুন্না (২০)(মৃত) নুরুল হকহাটহাজারী এলাকা
মো. রিয়াজ হোসেন (২০)মো. বাহারহাটহাজারী এলাকা
মো. মাসুদুর রহমান (২৪)মিজবাহ রহমান চৌধুরীবাকলিয়া, চট্টগ্রাম মহানগর
সৈয়দ হামিদ মিয়াজী (২২)ওসমান গনিসৈয়দপাড়া, সাতকানিয়া

আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বেআইনি জনসমাবেশ করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁদের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে যারা নাশকতা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে, তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বা ভোরে হুটহাট মিছিল করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের এই ধরনের ঝটিকা মিছিল মূলত কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা রাখার একটি প্রচেষ্টা। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনি বিধিবিধান মেনে চলা প্রয়োজন যাতে জনজীবনে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। বর্তমানে কোতোয়ালি ও এর আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।