চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে পাঁচ প্রাণহানি

চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ বুধবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাখাওয়াত হোসেন (৪৯) মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে একই পরিবারের আরও চারজন সদস্য প্রাণ হারান। বর্তমানে দগ্ধ বাকি চারজনের অবস্থাও সংকটাপন্ন; তাঁদের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সাখাওয়াত হোসেন শতভাগ দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকেরা বলছেন, দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সংক্রমণ ও অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত উচ্চ ছিল।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে নুরজাহান আক্তার রানী মৃত্যুবরণ করেন। মঙ্গলবার সকালে মারা যান তাঁর ছেলে শাওন (১৬)। একই দিন দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সামির আহমেদ সুমন (৪০) এবং রাত পৌনে এগারোটার দিকে আশুরা আক্তার পাখি (৩৫) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ নিয়ে একই পরিবারের পাঁচজন সদস্যের করুণ পরিণতি ঘটল।

নিম্নে হতাহতদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—

নামবয়সসম্পর্কমৃত্যুর সময়
সাখাওয়াত হোসেন৪৯পরিবারের প্রধানবুধবার সকাল
নুরজাহান আক্তার রানীউল্লেখ নেইস্ত্রীসোমবার সন্ধ্যা
শাওন১৬পুত্রমঙ্গলবার সকাল
সামির আহমেদ সুমন৪০ছোট ভাইমঙ্গলবার দুপুর
আশুরা আক্তার পাখি৩৫ভাইয়ের স্ত্রীমঙ্গলবার রাত

উল্লেখ্য, গত সোমবার ভোরে হালিশহর এইচ ব্লকের এসি মসজিদসংলগ্ন ছয়তলা ভবন ‘হালিমা মঞ্জিল’-এর তৃতীয় তলার একটি বাসায় রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় একই পরিবারের নয়জন দগ্ধ হন। প্রাথমিকভাবে তাঁদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়; পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবদ্ধ স্থানে গ্যাস জমে থাকলে সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। নিয়মিত গ্যাস লাইনের সংযোগ পরীক্ষা, চুলা ব্যবহারের আগে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং গ্যাসের গন্ধ পেলে সঙ্গে সঙ্গে মূল লাইন বন্ধ রাখা—এ ধরনের সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন হারানোর বেদনা ও দগ্ধদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ পরিবারটিকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।