চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নিজেই যে জমিতে চাষ করতেন, সেই ফসলি জমিতে এক কৃষকের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। নিহত চৌধুরী মিয়া (৪০) স্থানীয় ঠাকুরদিঘী এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুঃখজনক এই ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, মৃতদেহটি উদ্ধার করার পর প্রাথমিকভাবে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার স্থল হলো মিরসরাই উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী বাজারের উত্তর পাশে একটি ইটভাটা সংলগ্ন ফসলি জমি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌধুরী মিয়া প্রাত্যহিক কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু ওই সকালে কেউ তাঁকে দেখতে পাননি। পরে জমি পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পান।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি কাজী নাজমুল হক জানান, “ঠাকুরদিঘী এলাকায় কৃষি জমি থেকে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং আমরা বিস্তারিত তথ্য পরে জানাব।” তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে কোনো স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি যে এটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা না হত্যাকাণ্ড।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চৌধুরী মিয়া অত্যন্ত পরিশ্রমী কৃষক ছিলেন। তার মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। মিরসরাইয়ের কৃষক মহল এই ঘটনায় আতঙ্কিত। প্রশাসন মৃতদেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে ঘটনা স্পষ্ট হওয়ার চেষ্টা করছে।
নীচে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | চৌধুরী মিয়া |
| বয়স | ৪০ বছর |
| ঠিকানা | ঠাকুরদিঘী, দূর্গাপুর ইউনিয়ন, মিরসরাই, চট্টগ্রাম |
| মরদেহের অবস্থান | নিজস্ব ফসলি জমি, ইটভাটা সংলগ্ন |
| উদ্ধার সময় | ২৫ ফেব্রুয়ারি, সকাল |
| সংশ্লিষ্ট থানা | জোরারগঞ্জ থানা |
| ময়নাতদন্তের স্থান | চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ |
| তদন্ত অবস্থা | প্রাথমিক তদন্ত চলছে |
মিরসরাই থানার পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন মৃতদেহের সঠিক মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছে। নিহত কৃষকের পরিবার ও প্রতিবেশীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ন্যায্য তদন্ত ও হত্যাকারী শনাক্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সামাজিক ও প্রশাসনিক মহল সতর্কতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
এই মৃত্যু স্থানীয় কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য গভীরভাবে দুঃখজনক ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
