কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা কর্মকাণ্ড থেমে নেই। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান এবং মোবাইল কোর্টের উপস্থিতি সত্ত্বেও মাটিখেকোদের আটকানো যাচ্ছে না। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, অনেক জমির মালিক মোটা অঙ্কের বিনিময়ে নিজের ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অনুমতি দিচ্ছেন, যা অবৈধ কার্যকলাপকে উস্কে দিচ্ছে।
উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, বদরখালী, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, বরইতলী ও হারবাংসহ বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে। অধিকাংশ মাটি সরাসরি ইটভাটায় ব্যবহার হচ্ছে, এবং কিছু মাটি বাড়ি নির্মাণ ও গর্ত ভরাটের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অবৈধ মাটি কাটার জন্য বড় বড় ট্রাক দিয়ে কৃষিজমির মধ্য দিয়ে অস্থায়ী সড়ক তৈরি করা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও ফসলি জমির জন্য ক্ষতিকর।
স্থানীয়রা জানান, একটি ট্রাক মাটির দাম এলাকাভেদে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত। মাটির আয় থেকে জমির মালিকরা সাধারণত ৫০-৬০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন। ফলে মাটিখেকোদের দাপট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কয়েকটি সাম্প্রতিক অভিযানের বিস্তারিত নিম্নরূপ:
| তারিখ | এলাকা | অভিযুক্ত ব্যক্তি | জরিমানা | জব্দকৃত সরঞ্জাম |
|---|---|---|---|---|
| ১৩ জানুয়ারি | পশ্চিম বড় ভেওলা | নাজিম উদ্দিন | ১,০০,০০০ টাকা | – |
| ১৪ জানুয়ারি | ফাঁসিয়াখালী | রবিউল হাসান | ১,০০,০০০ টাকা | – |
| ১৮ জানুয়ারি | পশ্চিম বড় ভেওলা | এহেছান হাবিব মামুন | ৫০,০০০ টাকা | স্কেভেটর |
| ১৮ জানুয়ারি | কোনাখালী, জঙ্গলীয়া | – | – | স্কেভেটর নষ্ট, ব্যাটারি ২টি জব্দ |
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপায়ণ দেব জানান, “উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মাটি বেশিরভাগ ইটভাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে। মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত স্কেভেটরসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের অভিযান একা যথেষ্ট নয়। কৃষিজমির মালিকদেরও সচেতন হতে হবে এবং আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রশাসন ও স্থানীয়দের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবৈধ মাটি কাটার কর্মকাণ্ড কমানো সম্ভব হবে।
