ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করেছে দেশের আভ্যন্তরীণ নদী ও জলপথে চলাচলকারী নৌযানসমূহের জন্য। অধিদফতর জানিয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে নদী পথগুলোতে দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যা নৌপরিবহনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। সব নৌপরিবহন অপারেটর ও ফেরি পরিচালকদের কূটনৈতিক সতর্কতা অবলম্বন এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীপথ জুড়ে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা বিরাজ করবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কিছু অঞ্চলে দৃশ্যমানতা ৫০০ মিটার বা তার নিচেও নেমে যেতে পারে। যদিও এই সময় নৌ চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ নয়, তবুও নৌপরিচালকদের ধীরে এবং সতর্কভাবে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর মঙ্গলবারের পূর্বাভাসের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে, যা নিম্নরূপ:
| সময়সীমা | কুয়াশার তীব্রতা | প্রত্যাশিত দৃশ্যমানতা | নৌ চলাচলের নির্দেশনা |
|---|---|---|---|
| ৫:০০টা–৮:০০টা | ঘন কুয়াশা | ৪০০–৫০০ মিটার | সতর্কভাবে চলাচল; সংকেত বাধ্যতামূলক নয় |
| ৮:০০টা–১:০০টা | মাঝারি কুয়াশা | সর্বোচ্চ ৫০০ মিটার | সতর্কভাবে চলাচল; অবিরত নজরদারি অবলম্বন |
একজন অধিদফতর মুখপাত্র বলেন, “কুয়াশা নদীপথে নিরাপদ চলাচলের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নৌপরিচালকরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ধীরে চলতে হবে। জরুরি সংকেত এবং জেটিতে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম সবসময় প্রস্তুত রাখতে হবে।”
নৌ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও সুপারিশ করেছেন, ঘন কুয়াশার সময় প্রধান নদী চ্যানেল, সেতু এবং বাঁধের কাছাকাছি চলাচলে বিশেষ যত্ন নেওয়া। এছাড়াও, সব নৌযানকে তাদের আলো এবং শব্দ সংকেত ব্যবস্থা পূর্ণ কার্যক্ষম রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে অন্যান্য নৌযানকে সতর্ক করা যায় এবং দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
সংক্ষেপে, মঙ্গলবার ঘন কুয়াশা আভ্যন্তরীণ জলপথের চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। নাবিকরা নির্দেশিকা অনুসরণ, প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং নদীপথে নিরাপদ চলাচলের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নিরাপদ যাত্রার জন্য সঠিক সংকেত ব্যবহার, গতি কমানো এবং নদীর পরিবেশের অবিরত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
