ফাল্গুন মাসে তাপমাত্রা এখনও শীর্ষে পৌঁছায়নি, তবু দেশের বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যানের বাজার ইতিমধ্যেই গরম অনুভব করছে। ঢাকার কারওয়ান বাজার, জাতীয় স্টেডিয়াম মার্কেট এবং বাইতুল মোকাররম এলাকার ইলেকট্রনিক দোকানগুলোর জরিপে দেখা গেছে, ব্র্যান্ড অনুসারে প্রতিটি সিলিং ফ্যানের দাম ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, গ্রীষ্মের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেলে দাম আরও বাড়তে পারে।
দোকানিদের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তুতকারকরা আগেভাগেই দাম বাড়িয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে তামা ও পিতলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি মূল কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত মৌসুমী দাম বৃদ্ধি ১০০–১৫০ টাকা প্রতি ইউনিটের মধ্যে থাকে, তবে এবারের বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বিশেষত মোটরের তামার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তারের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ এবং অ্যালুমিনিয়ামের উপাদানের দাম ২০–২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
খুচরা বিক্রির তুলনামূলক দাম
নিম্নের টেবিলে কিছু জনপ্রিয় সিলিং ফ্যান ব্র্যান্ডের পূর্ববর্তী এবং বর্তমান খুচরা দাম দেখানো হয়েছে:
| ব্র্যান্ড | পূর্বের দাম (টাকা) | বর্তমান দাম (টাকা) | দাম বৃদ্ধি (টাকা) |
|---|---|---|---|
| BRB | ৩,২০০ | ৩,৮৫০ | ৬৫০ |
| RFL | ৩,১০০ | ৩,৫০০ | ৪০০ |
| Jamuna | ৩,০০০ | ৩,৪০০ | ৪০০ |
| Walton | ২,৬০০ | ৩,১০০ | ৫০০ |
শিল্প বিশ্লেষকরা বলছেন, ১,৮০০–৩,৫০০ টাকার মধ্যে ফ্যান সবচেয়ে জনপ্রিয়। দেশীয় ব্র্যান্ড বর্তমানে গ্রাহকের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য, কারণ আমদানি করা ফ্যানের দাম সাধারণত ৬,০০০ টাকার বেশি, যা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে ক্রয় করা সম্ভব নয়।
উৎপাদন ও বাজারের চিত্র
বর্তমানে দেশে বিক্রি হওয়া সিলিং ফ্যানের ৭০–৮০ শতাংশই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত। প্রধান ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে Jamuna, RFL, Walton, BRB, Konka এবং Energypack। শিল্প সূত্র estimate করে, বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫–৬ মিলিয়ন ইউনিট। গড় খুচরা দাম প্রায় ২,৫০০ টাকা ধরা হলে, দেশীয় বাজারের মূল্যায়ন ১২.৫–১৫ বিলিয়ন টাকার মধ্যে। টেবিল, স্ট্যান্ড, ওয়াল ও রিচার্জেবল ফ্যান অন্তর্ভুক্ত করলে মোট বাজারের আকার ২০ বিলিয়ন টাকারও বেশি। এই খাত বছরে ১০–১৫ শতাংশ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ভোক্তাদের প্রভাব
দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতারা সমস্যায় পড়ছেন। সম্প্রতি কারওয়ান বাজারে একজন ক্রেতা ২,০০০ টাকার কম মূল্যে পছন্দের ফ্যান না পেয়ে ২,১০০ টাকায় কম জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ফ্যান কিনেছেন। তিনি দাম বৃদ্ধির কারণে অসন্তুষ্ট হলেও বিকল্পের অভাবে ক্রয় করতে বাধ্য হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক কাঁচামাল ও মুদ্রার বাজারে চলমান অস্থিরতা আগামী গ্রীষ্মে ফ্যানের দামের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবুও প্রস্তুতকারকরা আশাবাদী, তারা মনে করেন, এই মধ্যমস্তরের দাম বৃদ্ধির কারণে মোট বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।
এই পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের আগে থেকে বাজেট ঠিক রাখা এবং বাজারের মূল্য ওঠানামার দিকে খেয়াল রাখা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
