গ্রামে গানবাজনা বন্ধের নোটিশ জারি মসজিদ কমিটির

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া পোড়াগ্রামে অবস্থিত একটি জামে মসজিদ সম্প্রতি গ্রামে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার নোটিশ জারি করেছে। মসজিদ কমিটি ‘সমাজ সংস্কার’–এর নামে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নির্দেশ দিয়েছে, যে কোনো বিয়েবাড়িতে গানবাজনা করা হলে স্থানীয় আলেমরা সেখানে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে পড়াতে যাবেন না।

নোটিশে বলা হয়েছে, “আমরা আমাদের গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার স্বার্থে গান–বাজনা, স্টেজ শো ও অপসংস্কৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও ক্ষতিকর হওয়ায় তা গ্রামের গণসম্মতির ভিত্তিতে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি। এর পরও কেউ বাদ্যযন্ত্র বাজালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নোটিশে মসজিদ কমিটির ৩৪ জন সদস্য ও গ্রামবাসীর স্বাক্ষর রয়েছে।

নোটিশ জারির পর গ্রামে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়। এরপর থেকে গ্রামে গানবাজনা বন্ধ আছে। বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নোটিশ, ব্যানার ও ফেস্টুন জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল (রাজন) জানান, মসজিদ কমিটির সদস্যদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। কমিটির ৮–১০ জন সদস্য জানায়, তারা ভুলবশত নোটিশ জারি করেছেন। তারা লিখিতভাবে গানবাজনা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে এবং ভুল স্বীকার করে ইউএনও অফিসে জমা দেবে। মসজিদের ইমাম আবদুল মালিক বিন খালেদুর রহমান বর্তমানে মুঠোফোনে যোগাযোগে অস্পষ্ট।

গ্রামে প্রায় দুই মাস আগে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মসজিদ কমিটি সামাজিক অনুষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। গ্রামের প্রতিক্রিয়া মিশ্র—বয়স্কদের একাংশ সমর্থন জানালেও তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গ্রামের কয়েকজন নারী জানালেন, “বিয়েবাড়িতে গান বাজানো বা গীত গাওয়া যাবে না। সাউন্ডবক্স ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমন হলে আলেমরা বিয়েতে উপস্থিত হবেন না।” অন্যদিকে, কিশোরদের পিকনিক ও সাউন্ডবক্সে গান বাজানোও বন্ধ।

নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণ
গ্রামতেররশিয়া পোড়াগ্রাম, ইসলামপুর ইউনিয়ন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর
মসজিদস্থানীয় জামে মসজিদ
সিদ্ধান্তগানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
স্বাক্ষরকারীমসজিদ কমিটির ৩৪ জন সদস্য ও গ্রামবাসী
প্রভাবিতসামাজিক অনুষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা
প্রশাসনের পদক্ষেপনোটিশ, ব্যানার ও ফেস্টুন জব্দ; কমিটির ভুল স্বীকার

গ্রামের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “বিয়ে মানে আনন্দের অনুষ্ঠান। গানবাজনা ও গীত-গাওয়া স্বাভাবিক। কেউ তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে পারবে না। মৌলভিরা না এলে বিয়েবাড়িতে অনুষ্ঠান স্থগিত হবে না। এই সিদ্ধান্ত বহু গ্রামবাসী মানবে না।”

এ ঘটনার মাধ্যমে দেখা যায়, সমাজ সংস্কারের নামে স্থানীয় ধর্মীয় সংস্থা ও প্রশাসনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও মতবিরোধে গ্রামের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের উপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।